images

দেশজুড়ে

মেছোবিড়ালকে বাঘ ভেবে পিটিয়ে হত্যা

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ , ০৯:০৫ পিএম

নাটোরের বড়াইগ্রামে বিপন্নপ্রায় এক মেছো বিড়ালকে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয়রা। 

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে এই প্রাণীটিকে চারদিকে ঘেরাও করে বাঁশ ও অন্যান্য লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে অজ্ঞাত এলাকার বিভিন্ন বাড়ির হাঁস, মুরগী ধরে নিয়ে যাচ্ছিল এবং মাঠের বেশ কয়েকটি ছাগলের ওপর হামলা করে মাংস ছিঁড়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে গ্রামবাসী একত্র হয়ে এই প্রাণীটিকে খুঁজে বের করে পিটিয়ে হত্যা করে।

মৃত ওই প্রাণীটিকে স্থানীয়রা গন্ধগোকুল বলে শনাক্ত করলেও স্থানীয় সাংবাদিকরা জানায়, এটা বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী মেছো বিড়াল। পরে উপজেলা বন কর্মকর্তা সত্যেন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিহত এই প্রাণীটির মেছো বিড়াল বলে নিশ্চিত করেছেন

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রাণী মানুষ খায় না বা মানুষকে আক্রমণ করে না। এরা মানুষ থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করে এবং বিপদের আভাস পেলে পালিয়ে যায়। মেছো বিড়ালের খাদ্যাভ্যাসের তালিকার মধ্যে মাছ এদের প্রধান খাবার।

এ ছাড়াও এরা ব্যাঙ, কাঁকড়া, শামুক, সাপ, পাখি এবং ইঁদুর জাতীয় প্রাণী শিকার করে। মানুষ ভুল করে এদের বড় বাঘ ভেবে ভয় পায় এবং অকারণে মেরে ফেলে। এরা জলাভূমির বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে। এটি একটি বিপন্ন বা সংকটাপন্ন প্রজাতির প্রাণী।

বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, মেছো বিড়ালকে (Fishing Cat) অনেক এলাকায় মেছোবাঘ নামেও ডাকে। কিন্তু এর প্রকৃত নাম মেছো বিড়াল। অথচ বাঘ নামে ডাকার কারণে শুধু শুধু আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রাণীটি মানুষকে আক্রমণ করে না। বরং মানুষ দেখলে পালিয়ে যায়। তাই এটি নিয়ে ভীত হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই এই প্রাণীটি বিচরণ রয়েছে। জলাভূমি আছে এমন এলাকায় বেশি দেখা যায়। প্রাণীটি জলাভূমির মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া ছাড়াও পোকামাকড় ও ইঁদুর খেয়ে কৃষকের উপকার করে। জনবসতি স্থাপন, বন ও জলাভূমি ধ্বংস, পিটিয়ে হত্যা ইত্যাদি কারণে বিগত কয়েক দশকে এই প্রাণীটির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

আরও পড়ুন
16

এক চিতলে জেলের কিস্তিমাত, কিনলেন ইতালি প্রবাসী

মেছো বিড়াল হত্যার ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে মেছো বিড়ালকে বিপন্ন প্রাণী প্রজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন)। তাছাড়া বন্যপ্রাণী আইন-২০১২ অনুযায়ী এই প্রজাতি সংরক্ষিত। তাই এই প্রাণীটি হত্যা বা এর কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আরটিভি/এসএস