বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ , ০৮:২৮ পিএম
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে লালন-পালন করা বিশাল আকৃতির ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় ‘বাদশা’ এখন খামারির জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরুটি বিক্রির চেষ্টা চললেও প্রত্যাশিত ক্রেতা না পাওয়ায় হতাশায় সময় কাটাচ্ছেন মালিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের কেদারপুর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় যুবদল নেতা কামরুল আহসান পলাশ শখের বশে ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টি লালন-পালন করেন। ৯ বছর ধরে সন্তানের মতো বড় করা গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘বাদশা’।
বর্তমানে ‘বাদশা’র ওজন প্রায় ১,৪০০ কেজি (প্রায় ৩৫ মণ), উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ফুট। বিশাল আকৃতির কারণে এটি দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই মানুষ ভিড় করছেন।
খামারি কামরুল আহসান পলাশ জানান, কোনো ধরনের হরমোন বা মোটাতাজাকরণ ওষুধ ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটিকে বড় করা হয়েছে। প্রতিদিন খাবারের পেছনে প্রায় ৮০০ টাকা ব্যয় হয়। ভুসি, খড় ও তাজা ঘাস খাওয়ানোর পাশাপাশি গরমে স্বস্তির জন্য গোয়ালে বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত বছর কোরবানির হাটে তুলেছিলাম, তখন সাড়ে ১০ লাখ টাকা দাম উঠেছিল। কিন্তু খরচ বেশি হওয়ায় বিক্রি করিনি। এবার ১৫ লাখ টাকা দাম চাওয়া হচ্ছে। ঢাকার হাটে নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এত বড় গরু একা সামলানো সম্ভব নয়। গোয়ালঘর থেকে বের করতে ৮-১০ জন মানুষের সহায়তা লাগে।
এদিকে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গরুটির স্বাস্থ্য ও লালন-পালন নিয়মিত নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে বড় করা হয়েছে।
কোরবানির ঈদ সামনে থাকলেও বিশাল আকৃতির এই ‘বাদশা’ বিক্রি হবে কি না এ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছেন খামারি।
আরটিভি/এসকে