images

দেশজুড়ে

ঈদের ৩ দিন ছাড়ে নিত্যপণ্য বিক্রির আহ্বান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের 

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ , ১১:১৭ পিএম

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে তিন দিন মূল্য ছাড়ে নিত্যপণ্য বিক্রির আহ্বান জানিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মত বিনিময় সভা করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তার এই মানবিক উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা।

জেলা প্রশাসকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আগামী সোমবার (১৮ মে) খাতুনগঞ্জ, রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ চট্টগ্রামের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঈদ উপলক্ষে অন্তত তিন দিনের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে মূল্যছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেবেন বলে জানা গেছে। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগকে অনেকেই ‘মানবিক বাজারব্যবস্থার নতুন অধ্যায়` হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এর আগে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও ব্যবসায়ীদের প্রতি একই ধরনের মানবিক আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে, এবার চট্টগ্রামে বিষয়টি আরও বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

চট্টগ্রামে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৩৫তম শাখার উদ্বোধন

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উৎসব এলেই পণ্যের দাম কমে। ইউরোপ-আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলোতে উৎসব উপলক্ষে “ফেস্টিভ সেল” বা বিশেষ মূল্যছাড় সাধারণ সংস্কৃতির অংশ। কিন্তু বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে উল্টো চিত্র দেখা যায়—উৎসব এলেই বাড়তে থাকে নিত্যপণ্যের দাম। সেই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসে মানবিক ও দায়িত্বশীল বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক রাজধানী। চট্টগ্রামকে ঘিরেই দেশের বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে, যার প্রভাব আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছে। তাই আমরা চট্টগ্রাম থেকেই একটি নতুন মানবিক বার্তা দিতে চাই।

জেলা প্রশাসক বলেন, উৎসবের প্রকৃত দর্শন হচ্ছে সর্বজনীন অংশগ্রহণ। উৎসবের ধারণাটাই এমন যে সেখানে সকল স্তরের, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ সেটার সাথে সম্পৃক্ত থাকবে। কিন্তু যখন উৎসবকে কেন্দ্র করে জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তখন সাধারণ মানুষ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়।

তিনি বলেন, সবাই মিলেমিশে যদি ঈদ উদযাপন করতে না পারি তবে সেটাকে সামগ্রিক উৎসব বলা যায় না।

প্রশাসক বলেন, নতুন সরকার একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী উৎসবকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত মুনাফার আশায় নিত্যপণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হয়।

তিনি বলেন, উৎসব আসলে জিনিসের দাম বাড়বে না, উৎসব আসলে জিনিসের দাম কমবে—এবং এই ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম হবে পাইওনিয়ার।

সভায় জেলা প্রশাসক বাজার ব্যবস্থার নানা সমস্যার কথাও তুলে ধরে বলেন, একটি পণ্য আমদানির পর ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে তিন-চারটি হাত ঘুরতে হয়। একজন আমদানিকারক, এরপর পাইকার, তারপর আরও কয়েকজন মধ্যস্বত্বভোগী ঘুরে পণ্য খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে আসে। ফলে আমদানিতে সামান্য দেরি হলেই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং দাম বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন
11

পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আগাম টাকা দেওয়ার পরও বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগী এক জায়গা থেকে কিনে আরেক জায়গায় বিক্রি করেন। অথচ আমদানিকারকদের কাছ থেকে যদি সরাসরি খুচরা ব্যবসায়ীরা পণ্য পাওয়ার সুযোগ পান, তাহলে অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ কমবে এবং বাজারও স্থিতিশীল থাকবে।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, একজন ব্যবসায়ী যদি একটি পণ্যে এক টাকা লাভ করেন, তাহলে ঈদ উপলক্ষে সেই লাভের একটি অংশ কমিয়ে এক টাকা বা দুই টাকা ছাড় দিলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। এতে ব্যবসায়ীরও বড় ক্ষতি হবে না, বরং ক্রেতা বাড়বে।

সভায় উপস্থিত এক ব্যবসায়ী প্রতিনিধি বলেন, জেলা প্রশাসকের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে তারা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। অন্তত তিন দিনের জন্য হলেও যদি এক টাকা বা দুই টাকা কমানো যায়, তাহলে খুচরা বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আরেক ব্যবসায়ী প্রতিনিধি বলেন, বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপ ও খাতুনগঞ্জের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে তারা অভ্যন্তরীণভাবে বসবেন। তবে, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলে এর প্রভাব আরও ভালো হবে বলে তিনি মনে করেন।

সভায় আরও প্রস্তাব আসে, দোকানে আগের দাম ও বর্তমান ছাড়মূল্য একসঙ্গে লিখে প্রদর্শন করলে ক্রেতারা বুঝতে পারবেন তারা কতটুকু ছাড় পাচ্ছেন। এতে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ক্রেতাদের আস্থাও তৈরি হবে।

একজন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি বলেন, একজন যদি উদাহরণ তৈরি করেন, তাহলে অন্যরাও অনুসরণ করবেন। এক টাকার মুনাফা থেকে ৫০ পয়সা ছাড় দিলে ব্যবসায়ীর খুব বেশি ক্ষতি হবে না, কিন্তু সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।

সভায় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধিরা বলেন, রোজা ও ঈদকে কেন্দ্র করে যেন কোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় হতে না পারে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। অবৈধ মজুত বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে যাতে মানহীন পণ্য না পৌঁছায়, সে বিষয়েও ব্যবসায়ী নেতাদের নজরদারি বাড়াতে হবে।

সভায় বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। তারা বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করতে পারে।

আরটিভি/এমএম