images

দেশজুড়ে

আরটিভিতে নিউজের পর ক্যানসার আক্রান্তের পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ , ১১:২৮ এএম

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার উত্তর মিঠাখালী ক্যানসার আক্রান্ত যুবক রেজাউলের চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার। সম্প্রতি আরটিভিতে তার অসুস্থতা ও অসহায় পরিবারের জীবনসংগ্রামের সংবাদ প্রচারের পর প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি।

শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টায় রেজাউলের বাড়িতে গিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার এবং মঠবাড়িয়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যাকাত ফান্ড থেকে ১০ হাজার টাকা ও মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাব থেকে ২ হাজার টাকা অনুদান পরিবারের কাছে তুলে দেন।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা রেজাউলের পাশে আর্থিক অনুদান দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছি। পর্যায়ক্রমে সমাজকল্যাণ পরিষদ থেকে অনগ্রসর প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ফান্ড থেকে ৩০ হাজার ও ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তিদের তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে কাশি, জ্বর ও বুকের বাম পাশে ছোট একটি টিউমার নিয়ে ঢাকার মহাখালী হাসপাতালে ভর্তি হন রেজাউল। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তার ফুসফুসে টিউমার হয়েছে এবং তিনি নন-হজকিন লিম্ফোমা নামক এক ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত। এরপর থেকেই মহাখালী ক্যানসার হাসপাতালে টানা আট মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন রেজাউল। কিন্তু মাত্র ২১ দিন পর ঢাকায় পুনরায় চেক-আপ করালে দেখা যায়, ক্যানসারের জীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে টিউমারটি ১১ থেকে ১২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বড় হয়ে গেছে।

এদিকে, চা দোকানি বাবা সেলিম হাওলাদার ও গৃহিণী মা এমিলি বেগমের শুরু হয় একমাত্র সন্তানকে বাঁচানোর মরিয়া লড়াই। ছেলের চিকিৎসার জন্য তারা তাদের সব সঞ্চয় শেষ করেছেন, এমনকি ধারদেনাও করতে হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরও সুস্থ হয়নি রেজাউল। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বাবা-মা। বসতভিটার সামান্য জায়গাটুকু ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই তাদের।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

ক্যানসারে আক্রান্ত ছেলেকে বাঁচাতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন চা দোকানি বাবা

চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হলে তার জরুরি ভিত্তিতে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট (Bone Marrow Transplant - BMT) করানো প্রয়োজন। এ চিকিৎসার জন্য প্রায় ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে। তবে এত বিপুল অর্থ জোগাড় করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়।

প্রিয়জনকে বাঁচাতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। কীভাবে চিকিৎসার খরচ বহন করবেন, তা ভেবে এখন অসহায় পরিবারটি। তাই মানবিক সহায়তার জন্য সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা কামনা করছেন রেজাউল ও তার পরিবার।

আরটিভি/এসএস