ক্যানসারে আক্রান্ত ছেলেকে বাঁচাতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন চা দোকানি বাবা

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ , ০২:০৪ পিএম


ক্যানসারে আক্রান্ত ছেলেকে বাঁচাতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন চা দোকানি বাবা
ছবি: আরটিভি

অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা রেজাউল করিমের। পড়াশোনা করেন মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজে। স্বপ্ন দেখেছিলেন, পড়া শেষে ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে মা-বাবার দায়িত্ব নেবেন। কিন্তু তা আর হলো না। এখন তার দিন কাটছে হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে। সময় যাচ্ছে মৃত্যুর প্রহর গুনতে গুনতে।

২০২৫ সালের শুরুর দিকে কাশি, জ্বর ও বুকের বাম পাশে ছোট একটি টিউমার নিয়ে ঢাকার মহাখালী হাসপাতালে ভর্তি হন রেজাউল। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তার ফুসফুসে টিউমার হয়েছে এবং তিনি নন-হজকিন লিম্ফোমা নামে এক ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত। এরপর থেকেই মহাখালী ক্যানসার হাসপাতালে টানা আট মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন রেজাউল। কিন্তু মাত্র ২১ দিন পর ঢাকায় পুনরায় চেকআপ করালে দেখা যায়, ক্যানসারের জীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে টিউমারটি ১১ থেকে ১২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বড় হয়ে গেছে।

এদিকে চা দোকানি বাবা সেলিম হাওলাদার ও গৃহিণী মা এমিলি বেগমের শুরু হয় একমাত্র সন্তানকে বাঁচানোর মরিয়া লড়াই। ছেলের চিকিৎসার জন্য তারা তাদের সব সঞ্চয় শেষ করেছেন, এমনকি ধারদেনাও করতে হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরও সুস্থ হয়নি রেজাউল। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বাবা-মা। বসতভিটার সামান্য জায়গাটুকু ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই তাদের।

আরও পড়ুন

চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হলে তার জরুরি ভিত্তিতে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট (Bone Marrow Transplant - BMT) করানো প্রয়োজন। এ চিকিৎসার জন্য প্রায় ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে। তবে এত বিপুল অর্থ জোগাড় করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রিয়জনকে বাঁচাতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। কীভাবে চিকিৎসার খরচ বহন করবেন, তা ভেবে এখন অসহায় পরিবারটি। তাই মানবিক সহায়তার জন্য সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা কামনা করছেন রেজাউল ও তার পরিবার।

রেজাউল ইসলাম বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম এটি সাধারণ কোনো অসুস্থতা। কিন্তু পরে জানতে পারি, আমি ক্যানসারে আক্রান্ত। এখন নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে চরম কষ্টে দিন পার করছি। তাই সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানাচ্ছি।

রেজাউলের বাবা সেলিম হাওলাদার বলেন, রেজাউল এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। তার চিকিৎসা করতে গিয়ে আজ আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। একটু সহায়তা ফিরিয়ে দিতে পারে তার হাসি রক্ষা করতে পারে একটি জীবন। আমার ছেলের জীবন ভিক্ষা চাই।

এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবুল হাসান জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে খবরটি গতকালকে রাত্রে দেখেছি। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেছি রেজাউলের পাশে দাঁড়ানোর।

আর্থিক সহায়তা-
ব্যাংক হিসাব নম্বর: ৩২৭৭১১১০১১৩০৮০৫
নাম: এমিলি বেগম (রেজাউলের মা)
উত্তরা ব্যাংক (মঠবাড়িয়া ব্রাঞ্চ), পিরোজপুর।

আর্থিক সহায়তা-
নাম: এমিলি বেগম (রেজাউলের মা)
বিকাশ ও নগদ: 01703639100


আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission