রোববার, ১৭ মে ২০২৬ , ০৮:০৪ পিএম
কক্সবাজারের উখিয়ায় ফেসবুকের একটি পোস্টে ‘হা-হা’ রিয়্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের বিরোধ হামলায় রূপ নেয়। এ সময় সন্তানকে বাঁচাতে যাওয়া মা’কে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্তরা বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগীরা।
শনিবার (১৬ মে) রাত ৮টার দিকে উখিয়া উপজেলা সদরের টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সৈয়দা খাতুন (৫০) ওই এলাকার সব্বির আহমেদের স্ত্রী।
জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা থানায় এজাহার দিলেও মামলা হয়নি। এরপর থেকেই মূলত থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন স্থানীয় ছাত্রদল নেতা জিসানের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে হা হা রিয়েক্ট দেন ছাত্রলীগ নেতা ইউনুস। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইউনুসকে মারধর শুরু করলে বাঁচাতে এগিয়ে যায় এনজিওকর্মী এসএম ইমরান। তখন ইমরানকেও মারধর শুরু করে তারা। পরে খবর পেয়ে ইমরানকে বাঁচাতে তার মা এগিয়ে গেলে বিএনপি নেতারা তাকে মারধর করে। এতে গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন ইমরানের মা ছৈয়দা বেগম। সেখান থেকে তাকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ছৈয়দা বেগম স্থানীয় সাব্বির আহমদের স্ত্রী।
হাসপাতালে নিহতের সন্তানেরা দাবি করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার, আব্দুল করিম, আকাশ, সাইফুল সিকদার, ছৈয়দ বাবুল, মাহবুবুর রহমান, ছালাম সিকদার, ছাত্রদল নেতা জিসান ও এম্বুল্যান্স চালক শামসুল আলমের নেতৃত্বে খুন করা হয় ছৈয়দা বেগমকে।
এদিকে, ছাত্রলীগ নেতা ইউনুসকে মারধরের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। কিন্তু বিএনপির কোন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়নি।
তবে, ঘটনার পর রাত সাড়ে ১২ টার দিকে অভিযুক্তরা সংবাদ সম্মেলন করে এটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা উল্লেখ করে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করেন।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, ওই নারী হাসপাতালে মারা গেছেন। কিভাবে মারা গেছে সেটা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আরটিভি/এমএম