images

দেশজুড়ে

আদালতের এজলাসে ২ আইনজীবীর পাল্টাপাল্টি জুতা নিক্ষেপ

রোববার, ১৭ মে ২০২৬ , ১০:৫০ পিএম

বরগুনার পাথরঘাটায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই আইনজীবীর মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে জুতা নিক্ষেপ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (১৭ মে) সকাল প্রায় ১১টার দিকে আদালত কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় আদালতের বিচারক খাস কামরায় অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

আদালত সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরুর আগে আইনজীবীরা নিজ নিজ চেম্বার থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এ সময় অ্যাডভোকেট লাকির মহুরি (আইনজীবী সহকারী) মিরাজ আহমেদ অ্যাডভোকেট মঞ্জুর গাড়িতে করে উকিল বারে আসেন। পরে বিষয়টি নিয়ে অ্যাডভোকেট লাকি ক্ষোভ প্রকাশ করলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। উপস্থিত সিনিয়র আইনজীবীরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিরোধ মেটানো সম্ভব হয়নি। এরপর সবাই এজলাস কক্ষে গেলে সেখানে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে মঞ্জু ও লাকির মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উপস্থিত আইনজীবীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা লাকি বলেন, অ্যাডভোকেট মঞ্জু দীর্ঘদিন ধরে তার মহুরি মিরাজকে নিজের সঙ্গে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলেন। এ বিষয়ে একাধিকবার নিষেধ করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। রোববার সকালে মঞ্জু ব্যক্তিগত গাড়িতে করে মিরাজকে আদালতে নিয়ে আসেন। বিষয়টি জানতে চাইলে মঞ্জু ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন অ্যাডভোকেট লাকি।

অন্যদিকে অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মঞ্জু বলেন, ঘটনাটি তেমন গুরুতর নয়। সহকর্মীর এক সহকারী তার গাড়িতে করে আদালতে এসেছেন, যা সহমর্মিতার জায়গা থেকেই করা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে অ্যাডভোকেট লাকি লোকসম্মুখে তার দিকে জুতা নিক্ষেপ করেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও বলেন, বরগুনা আইনজীবী সমিতির ঊর্ধ্বতন নেতারা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ধরা আতর আলী, অতঃপর...

ঘটনার পরপরই বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে উপস্থিত সদস্যরা মত দেন যে, এ ধরনের আচরণ আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্র ও পেশাগত আচরণবিধির পরিপন্থি। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আইনজীবী সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। পরে উভয় আইনজীবীর সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলার সব বিচারিক আদালতে পেশাগত দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব মনোয়ারা আক্তার।

পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. মুবিন জানান, দুই আইনজীবীর কথাকাটাকাটি একপর্যায়ে হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। এতে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে অন্যান্য আইনজীবী ও আদালত সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এনাম বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে