images

দেশজুড়ে / অর্থনীতি

কমে যাচ্ছে মশলার দাম

বুধবার, ২০ মে ২০২৬ , ০৫:১৮ পিএম

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে মসলা আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বাজারে মসলার কোনো সংকট নেই। উল্টো উৎসবের এই সময়ে মসলার দাম আগের তুলনায় কমতে শুরু করেছে।

দিনাজপুর হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে মসলা জাতীয় পণ্যের আমদানি অনেক বেড়েছে। বর্তমানে জিরা, আদা, সাদা এলাচসহ বিভিন্ন মসলা এই বন্দরের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন হিলি স্থলবন্দর থেকে বিভিন্ন পরিবহনযোগে ঢাকা, বগুড়া, পাবনা, টাঙ্গাইলসহ দেশের সর্বত্র মসলা যাচ্ছে।

বুধবার (২০ মে) সকালে হিলি স্থলবন্দর বাজারে বিভিন্ন মসলার পাইকারি ও খুচরা দোকানগুলোতে পর্যাপ্ত সরবরাহ লক্ষ করা গেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মসলা কিনতে আসছেন পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা।

আরও পড়ুন
1000000000000000000000000000

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে কমে গেছে অধিকাংশ মসলার দাম

হিলি স্থলবন্দর কাস্টমস বিভাগের সহকারী কমিশনার এস এম সাইফুজ্জামান রাজীব জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত জিরা, ছোট এলাচ, কাজুবাদাম এবং কিসমিস মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার মেট্রিক টনের বেশি মসলা ভারত থেকে এই স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জিরা ও ছোট এলাচের পরিমাণ সাড়ে ৭ হাজার মেট্রিক টন।

হিলি বাজারের পাইকারি মসলা বিক্রেতা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, প্রতি বছর ঈদুল আজহার আগে মসলার দাম বৃদ্ধি পেলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। সরকারের কঠোর নজরদারির কারণে জিরা, এলাচসহ প্রতিটি পণ্যের দাম কমেছে। সাদা এলাচ কেজিতে প্রকারভেদে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ছোট এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা দরে, যা গত কোরবানির ঈদে ছিল ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার ৮০০ টাকা।

একইভাবে ২ সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি জিরা ৬৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৫৪০ থেকে ৫৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কালো এলাচ ৩ হাজার টাকা থেকে কমে ২ হাজার ৪০০ টাকায় নেমেছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৮০০ টাকার লবঙ্গ এখন ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং গোলমরিচ ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম কমায় বাজারে মসলার বেচাকেনাও অনেক গুণ বেড়ে গেছে।

বগুড়া শহর থেকে হিলি বাজারে মসলা কিনতে আসা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘হিলি বাজার থেকে জিরা, দারচিনি, ছোট এলাচসহ বিভিন্ন ধরনের মসলা কিনেছি। গত বছরের তুলনায় এবার কম দামে এবং ভালো মানের মসলা কিনতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।’

হিলি কাস্টমস বিভাগের রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল আজম বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে আদা, জিরাসহ মসলাজাতীয় পণ্য আমদানি, পরীক্ষণ ও শুল্কায়ন শেষে দ্রুত খালাস করতে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বাজারে যাতে মসলার কোনো সংকট সৃষ্টি না হয় এবং দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, তা নিশ্চিত করতে কাস্টমস বিভাগ তৎপর রয়েছে।

আরটিভি/এআর