চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে কমে গেছে অধিকাংশ মসলার দাম

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ০৮:০১ পিএম


চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে কমে গেছে অধিকাংশ মসলার দাম
ছবি : বাসস

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে মসলার বাজার এখন জমজমাট। 

খুচরা দোকানি ও বনেদি পরিবারগুলো ভিড় করছেন খাতুনগঞ্জের পাইকারি মসলার বাজারে। চাহিদার চেয়ে জোগান বেশি থাকায় বাজারে মসলার দাম কমছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিসংখ্যান বলছে, জিরার আমদানি হয়েছে দুই হাজার ৭৯৩ টন, লবঙ্গ এক হাজার ২৫৭ টন, এলাচ এক হাজার ৯৮ টন এবং জায়ফল আমদানি হয়েছে ৩৪৬ টন। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রধান চারটি মসলার আমদানি কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ।

কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, অন্যান্য বন্দর দিয়েও মসলা আসছে এবং সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।

একদিকে সরকারি হিসাবে মসলা আমদানি কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ, অন্যদিকে ১৫ দিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম কেজিতে ৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কমে গেছে।

ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের দাবি, এই ‘রহস্যময়’ দরপতনের নেপথ্যে রয়েছে সীমান্ত দিয়ে আসা বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য। 

এই অনুপ্রবেশের ফলে বৈধ আমদানিকারকরা এখন চরম সংকটে পড়েছেন।

আমদানিকারক ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক জানান, সাধারণত কোরবানির আগে মসলার চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সেই সুযোগে অসাধু সিন্ডিকেট দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে। পর্যাপ্ত জোগান থাকলেও সেই জোগান বৈধ পথের নয়।

খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, গত পনেরদিনে মসলার দামের গ্রাফ শুধু নিচের দিকেই নেমেছে। মে মাসের শুরুতে যে এলাচ পাইকারি পর্যায়ে চার হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, চলতি সপ্তাহে তা ২০০ টাকা কমে তিন হাজার ৯০০ টাকায় নেমে এসেছে। 

শুধু এলাচই নয়, লবঙ্গের দামও কেজিতে ৫০ টাকা কমে এক হাজার ৩০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে জিরা বিক্রি হচ্ছে ৫৩০ টাকায় ও গোলমরিচ এক হাজার ১০ টাকায়।

আরও পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, এলাচ ও জিরাসহ কিছু গরম মসলা চট্টগ্রাম বন্দরের বাইরে বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়েও আমদানি হচ্ছে। 

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই’ ২৫ থেকে ১০ মে’ ২৬ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এলাচ ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১৫০ টন, দারুচিনি ১৩ হাজার ২৯৬ টন, লবঙ্গ ১ হাজার ৩৫০ টন, জিরা ৩ হাজার ১১৫ টন, জৈত্রিক ৩৫০ টন, জায়ফল ৩৩৬ টন, গোলমরিচ ১ হাজার ৯৫৯ টন, আদা ৪৫ হাজার ৫৩৮ টন ও রসুন ৫৩ হাজার ১০১ টন।
 
২০২৪-২৫ অর্থবছরে এলাচ এসেছিল ১ হাজার ৮৪৬ টন, দারুচিনি ১৫ হাজার ৭৩৯ টন, গোলমরিচ ১ হাজার ৬৫৯ টন আমদানি হয়েছিল।
  
খাতুনগঞ্জের গরম মসলা ব্যবসায়ী মো. বাদশা বলেন, ডিউটি দিয়ে জিরা আমদানি মূল্য হচ্ছে কেজি ৫৩০ টাকা, সেই জিরা কিছু পাইকার বিক্রি করছে কেজি ৫শ টাকা। আবার এলাচ ডিউটি দিয়ে এলে (আমদানি হলে) প্রতি কেজি মূল্য হচ্ছে ৪১০০-৪২০০ টাকা। যারা ভিন্ন পথে আনছে, তারা ওই এলাচ বিক্রি করছে কেজি ৪০০০-৪০৫০ টাকায়। প্রতি কেজি ২শ টাকা কমে বিক্রি করছে অনেকে। এতে নিয়মিত আমদানিকারকরা মার খাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এপ্রিল মাসের শেষের দিকের তুলনায় সব ধরনের মসলার দাম কমেছে। এলএমজি এলাচ ছিল ৩৯০০ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৭০০ টাকা। আগে লবঙ্গ ছিল ১৩০০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ১২৬০ টাকা। একইভাবে ৪৪০ টাকার দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৪২০ টাকায়।’

মাংসসহ বিভিন্ন রান্নার উপকরণ উপাদেয় করতে মরিচ, হলুদ ও ধনিয়ার মতো সাধারণ মসলার পাশাপাশি ব্যবহৃত চিকন জিরা, লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি ও গোলমরিচসহ নানান মসলাকে গরম মসলা হিসেবে ধরা হয়। 

বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কোরবানিতে গরম মসলার চাহিদা থাকে বেশি।

খাতুনগঞ্জের ইলিয়াছ মার্কেট ও জাফর মার্কেটের মসলা ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে মোট চাহিদার গরম মসলার ৯০ শতাংশই আমদানি করতে হয়। চিকন জিরা, লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি, গোলমরিচ এ পাঁচ ধরনের গরম মসলা বেশি ব্যবহৃত হয়।

সিলেট, কুমিল্লা, ফেনী এলাকার সীমান্ত দিয়ে জিরা, এলাচ, কিশমিশ ও কাজুসহ সব ধরনের মসলা ঢুকছে দাবি করে আমদানিকারক ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক জানান, এতে খাতুনগঞ্জে মসলা বেচাকেনায় প্রভাব পড়ছে। বৈধ আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। জিরা কেজিতে ২২০-২৫০ টাকা শুল্ক, এলাচে কেজি প্রতি ৫৫০-৬০০ টাকা শুল্ক হারাচ্ছে সরকার। 

এলাচের দাম বেশি হওয়া প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি অমর কান্তি দাশ বলেন, এলাচের ব্যবহার বহুমুখী। ওষুধ থেকে শুরু করে মাংস, চা, বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাবারে এলাচের ব্যবহার বাড়ছে। মধ্যবিত্তের প্রিয় মসলা হচ্ছে জিরা। 

তিনি জানান, ছোট আকারের এলাচ ৩ হাজার ৭০০ টাকা, বড় আকারের এলাচ ৪ হাজার টাকা ও লবঙ্গ ১ হাজার ২৬০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা বিক্রি করছি আমরা।
 
আরটিভি/কেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission