বুধবার, ২০ মে ২০২৬ , ০৫:৫৫ পিএম
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ওমানে মারা যাওয়া চার ভাইয়ের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আর তাদের জানাজা পড়ান দেশে বেঁচে থাকা তাদের একমাত্র ভাই।
এদিকে এক সপ্তাহ আগে বিদেশে থাকা চার ছেলের একসঙ্গে মৃত্যু হয়েছে এই খবর জানতেন না তাদের মা। ছেলেদের কফিনবন্দি মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পর মাকে জানানো হয়। ঘর থেকে বেরিয়ে ছেলেদের কফিন দেখে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন তিনি। আহাজারি করতে করতে বারবার জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ছিলেন মাটিতে।
বুধবার (২০ মে) বেলা ১১টার দিকে লালানগর হাই স্কুল মাঠে চার ভাইয়ের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় প্রায় লক্ষাধিক লোক অংশগ্রহণ করেন। ইমামতি করেন নিহতদের সেজ ভাই হাফেজ মো. এনাম।
জানাজা শেষে বান্দারাজার পাড়া কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে দাফন করা হয় মো. রাশেদুল, মো. শাহেদুল, মো. সিরাজুল ও মো. শহিদুলকে।
এর আগে এক এক করে চার ভাইয়ের মরদেহ গোসল করানো হয়। শেষবারের মতো প্রিয় মুখগুলো দেখতে ভিড় করেন হাজার হাজার মানুষ। অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। মাঠজুড়ে ছিল শুধু নীরবতা আর কান্নার শব্দ।
বুধবার সকালে এই দৃশ্য দেখা যায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার লালানগর বন্ধরাজপাড়ায়। গত ১৩ মে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হয় এই পাড়ারই বাসিন্দা চার ভাইয়ের মরদেহ। পরে আজ সকাল সাতটার দিকে চারজনের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এর আগে গতকাল রাত ৯টার দিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে কফিনবন্দি মরদেহগুলো।
সকালে রাঙ্গুনিয়ার বাড়িটিতে গিয়ে চারপাশে কয়েকশ মানুষের ভিড় দেখা যায়। কেউ কান্না করছেন। কেউ আবার মারা যাওয়া চারজনের স্মৃতিচারণায় ব্যস্ত। ঘরের ভেতরে গিয়ে আহাজারি করতে দেখা যায় মারা যাওয়া চারজনের মা খদিজা বেগমকে। সেখানে আহাজারি করছিলেন নিহত রাশেদুলের স্ত্রী কুলসুমা আক্তার ও সাহেদের স্ত্রী শান্তা আকতারও। তারা দুজনও আহাজারি করতে করতে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন।
সাফিয়া বেগম নামে এলাকার এক নারী বলেন, ঘরে কারও কথা বলার মতো অবস্থাই নেই। একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। তাদের মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষাও কেউ খুঁজে পাচ্ছে না।
স্বজনরা জানান, ১৩ মে চার ভাইয়ের মৃত্যু হলেও তাদের মাকে এতদিন জানানো হয়নি। আজ সকালে চার ভাইয়ের কফিন তাদের দোতলা বাড়িটির নিচতলায় রেখে তাদের মাকে জানানো হয়। এরপর মা দোতলায় তার কক্ষ থেকে নিচে নেমে ছেলেদের মরদেহ দেখতে পান।
জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের একজন এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মুহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যু মেনে নেওয়ার মতো ঘটনা নয়। এর আগে এমন শোকাবহ ঘটনা এলাকায় ঘটেনি।
উল্লেখ্য, ১৩ মে রাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হয় প্রবাসী চার ভাইয়ের মরদেহ। রয়্যাল ওমান পুলিশের ধারণা, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এগজোস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাস গ্রহণের ফলে ওই চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, ভাইদের মধ্যে দুজনের গত শুক্রবার দেশে ফেরার কথা ছিল। তাই চার ভাই একটি গাড়ি নিয়ে একসঙ্গে বিয়ের কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। এর মধ্যেই পথে গাড়িতে তাদের মৃত্যু হয়।
আরটিভি/এমএইচজে