সম্প্রতি ওমানে গ্যাস বিস্ফোরণে মৃত্যু হওয়া ৪ ভাইয়ের মরদেহ আজ রাতে দেশে ফিরবে। দাফনের জন্য তাঁদের গ্রামের বাড়িতে খোঁড়া হয়েছে কবর। বুধবার (২০ মে) হবে দাফন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল প্রায় ৯টা থেকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়ন বন্দারাজ পাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন গোরস্তানে নিহত ৪ ভাইয়ের কবর খোঁড়ার কার্যক্রম শুরু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতদের ভাই এনামুল হক এনাম।
তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তার ৪ ভাইয়ের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১০টার দিকে বিশেষ ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে তাদের মরদেহ রাঙ্গুনিয়ার গ্রামে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে বুধবার (২০ মে) সকাল ৭-৮টার মধ্যে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এনাম আরও জানান, এখনও জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়নি। আপাতত পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবর খোঁড়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পরই জানাজার সময় নির্ধারণ করা হবে। তবে বুধবারই হোসনাবাদ লালানগর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ৪ ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এবং জানাজা শেষে বন্দেরাজ পাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন পারিবারিক গোরস্তানে তাদের দাফন করা হবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-৭২২ মঙ্গলবার ওমানের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে মাস্কেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। একই সাথে একই ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন নিহতদের স্বজন মো. ফজলুল হক।
চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের সভাপতি মো. ইয়াসিন চৌধুরী বলেন, মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। ওমান সরকার ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় দ্রুততার সঙ্গে এসব কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারের ব্যবস্থাপনায় নিহত ৪ ভাইয়ের মরদেহ পরিবহনের সম্পূর্ণ কার্গো খরচ বহন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওমান চট্টগ্রাম সমিতির পক্ষ থেকে হাসপাতালের হিমঘর বিল, কাফনের কাপড়, গোসল ও দাফনের প্রস্তুতিসহ প্রয়োজনীয় সব খরচ বহন করেছে। নিহতদের পরিবারের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে রাতে ওমানের আল মুলাদ্দাহ আল মোছানা স্টেট অব আল বাতিনাহ এলাকায় গাড়ির এসির বিষাক্ত গ্যাসে রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম নামে একই পরিবারের চার প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যু হয়।
তারা উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দারাজার পাড়া গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে। তবে ৪ ছেলের মৃত্যুর খবর এখনও পুরোপুরি জানানো হয়নি তাদের অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে।
মা সন্তানের মৃত্যুর খবর পুরোপুরি না জানলেও মৃত ২ জনের স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও পরিবারের সদস্যরাসহ স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
আরটিভি/এমএইচজে




