images

দেশজুড়ে

মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আ.লীগ নেতাকর্মীরা, ধরতে না পেরে ‘পথচারীদের গ্রেপ্তার’ করল পুলিশ!

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ , ০৭:৪৩ পিএম

শরীয়তপুরের জাজিরায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের হয়ে মহাসড়কে মিছিলের প্রস্তুতির খবর পেয়ে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থল ও তার আশপাশ থেকে নিরীহ পথচারীদের আটক করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২২ মে) দুপুরের দিকে ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের জাজিরা কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরের দিকে জাজিরা থানা পুলিশ গোপন সংবাদ পায় যে- ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের জাজিরা কলেজ এলাকায় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই খবরের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালালে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া ব্যক্তিরা দিকবিদিক ছুটে পালিয়ে যায়।

​স্থানীয়দের দাবি, মিছিলে অংশ নিতে আসা মূল ব্যক্তিদের কাউকে আটক করতে না পেরে পুলিশ ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ পথচারীদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী পরিবার ও 

স্থানীয়দের অভিযোগ, আটকদের অধিকাংশই কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।

এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রথমে ৬ জন এবং পরে আরও ২ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরবর্তীতে জাজিরা থানার উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) হিমায়েত হোসেন বাদী হয়ে মোট ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আটক ৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার (২৩ মে) আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতাররা হলেন- নড়িয়া উপজেলার ডগ্রী মোচেন ঢালী কান্দি এলাকার মো. আতাহার সরদার (২৬) ও মো. নাহিদ হাসান সরদার (২২), জাজিরা উপজেলার মোল্লাকান্দি এলাকার তুলন মাদবর (১৯), জাজিরা উপজেলার দক্ষিণ ডুবলদিয়া এলাকার শাকিল শিকারী (২০), জাজিরার বালিয়াকান্দি এলাকার জয় শেখ (২৬), শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী এলাকার লিয়াকত খান (২১), জাজিরা উপজেলার গজনাইপুর এলাকার রিফাত মোল্লা (২০) এবং নড়িয়া উপজেলার নয়ন মাদবর কান্দি এলাকার সাব্বির সরদার (২৪)।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

গাজীপুরে ১০৭ বোতল বিদেশি মদসহ সুজান মিয়া গ্রেপ্তার

​গ্রেপ্তার শাকিল শিকারীর বাবা বিল্লাল শিকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ছেলে রূপবাবুরহাটের একটি স্বর্ণের দোকানে কাজ করে। দুপুরে দোকান থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে ওর চাচাতো বোনকে একটা জিনিস দিতে কলেজের কাছে চাচার বাড়ি গিয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার পথে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। আমার ছেলে কখনোই কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল না।

একইভাবে গ্রেপ্তার হওয়া দিনমজুর আতাহার সরদারের বোন ফারজানা এবং ইলেকট্রিক মিস্ত্রি নাহিদ হাসানের বাবা আমির হোসেন সরদার জানান, আতাহার, নাহিদ ও সাব্বির তিন বন্ধু মিলে জাজিরার সেনেরচরে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে জাজিরা বটতলা এলাকা থেকে পুলিশ তাদের অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে যায়। 

আমির হোসেন বলেন, আমরা নিরীহ মানুষ, ছেলে দিনমজুরের কাজ করে। পুলিশ মিথ্যা মামলায় আমার ছেলেকে ফাঁসিয়েছে, আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

​অন্যান্য গ্রেপ্তারকৃতদের স্বজনরাও দাবি করছেন, সম্পূর্ণ বিনা দোষে তাদের সন্তানদের এই গুরুতর রাজনৈতিক মামলায় আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহাম্মদ জানান: ঘটনাস্থল থেকে ৬ জন এবং পরবর্তীতে সন্দেহভাজন হিসেবে আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সবাইকে শনিবার (২৩ মে) আদালতে পাঠানো হয়েছে।

​মিছিলের মূল আয়োজকদের ধরতে না পেরে সাধারণ পথচারীদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওসি বলেন, তাদেরকে ঘটনাস্থল ও সন্দেহভাজন হিসেবেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তদন্ত সাপেক্ষে যদি কেউ নিরপরাধ প্রমাণিত হন, তবে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে