images

দেশজুড়ে

বিএনপির কার্যালয়সহ ১৫ নেতাকর্মীর বাড়িতে আ.লীগের ভাঙচুর-লুটপাট

সোমবার, ০১ জুন ২০২৬ , ০৪:৩১ পিএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চর বলাকী গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

সোমবার (১ জুন) দুপুরে সংঘটিত এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।

​আহতরা হলেন- মুসা (৭০), সুমন (৩৫) ও জিকু (২৮)। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত সুমন ও জিকুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক মুসার সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক শহর আলীর বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার দুপুরে ঈদগাহ এলাকায় শহর আলীর সঙ্গে মুসার কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এর কিছুক্ষণ পরই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক উপজেলা যুবলীগ নেতা নাজমুল ইসলাম এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন প্রধানের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে হোসেন্দী ইউনিয়ন বিএনপির ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয় এবং অন্তত পাঁচটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মুসা বলেন, আপনারা জানেন গত কয়েক মাস আগে শহর আলী এবং তার ছেলে আমাকে মারধর করেছিল। আজ দুপুর ১২টার দিকে ঈদগাহ এলাকায় আমার সাথে শহর আলীর দেখা হয়। আমি তার কাছে বিষয়টির মীমাংসা ব্যাপারে জানতে চাইলে আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। শহর আলী নিজেকে বিএনপি বলে দাবি করলেও সে মূলত যুবলীগ নেতা নাজমুল হোসেনের লোক।

​এ বিষয়ে যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় যুবলীগ নেতা নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় আমাদের পার্টি অফিসসহ আমার বসতঘর এবং হাজী নুর ইসলাম, ইকবাল হোসেন, শুক্কুর আলী ও জিকুর ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। দুই শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এ হামলা চালায়।

​তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে যুবলীগ নেতা নাজমুল ইসলাম বলেন, আনোয়ার হোসেনের লোকজন বিনা উসকানিতে আমাকে ধাওয়া ও মারধরের চেষ্টা করে। পার্টি অফিস ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তারা নিজেরাই নিজেদের ঘরবাড়ি ও কার্যালয় ভাঙচুর করে দায় আমাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। এটি কোনো দলীয় বিরোধ নয় বরং ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমস্যা।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

হঠাৎ নেতাকে ‘ফ্লাইং কিস’ দিলেন এই নারী, ঘটনা কী

​এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দেশীয় অস্ত্রসহ ৭-৮ জন ব্যক্তি আনোয়ার প্রধান ও তার সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালাচ্ছে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ব থেকেই গোষ্ঠিকেন্দ্রিক বিরোধ রয়েছে। এর আগেও তাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজকের ঘটনায় বেশ কিছু বাড়িঘর ও একটি কার্যালয় ভাঙচুরের খবর পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​উল্লেখ্য, এর আগেও গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর এবং ৫ এপ্রিল একই গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন আহত এবং অনেকগুলো বসতবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল।

আরটিভি/এমএইচজে