images

দেশজুড়ে

‘ম্যাজিক মেশিন’ দিয়ে চিকিৎসা করেন ভুয়া ডাক্তার মাসুদ রানা

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬ , ০৩:৩২ পিএম

শরীয়তপুরের জাজিরায় সরকারি অফিসের সময়সূচি মেনে ও নামের পাশে ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে দীর্ঘ তিন বছর ধরে চিকিৎসাবাণিজ্য চালিয়ে আসছেন মো. মাসুদ রানা নামে এক ব্যক্তি। নিজেকে পল্লি চিকিৎসক দাবি করলেও তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নেই। উল্টো একটি ‘ম্যাজিক মেশিন’ (অনুমোদনহীন রোগ নির্ণয় যন্ত্র) রোগীর শরীরে ঠেকিয়ে ‘আলাদীনের চেরাগের’ মতো মুহূর্তেই সব রোগ বলে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২ জুন) জাজিরার নাওডোবায় মাসুদ রানার চেম্বারে সরেজমিনে গিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর প্রতারণার চিত্র দেখতে পায় আরটিভি টিম।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জাজিরার নাওডোবার আলম ব্যাপারীর প্রজেক্টের ভেতরে একটি আবাসিক এলাকার বাসা ভাড়া নিয়ে এই কাজ করছেন মাসুদ। বাসার একপাশে করা হয়েছে রোগী দেখার চেম্বার এবং অন্যপাশে গড়ে তোলা হয়েছে ফার্মেসি।

এর আগে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকায় প্রথম চেম্বার খোলেন তিনি। সেখানে অনুমোদনহীন মেশিন দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে প্রশাসন তাকে জরিমানা করে এবং তার মেশিন জব্দ করে। এরপর জাজিরায় গিয়ে আবারও একই পন্থায় প্রতারণা শুরু করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভুয়া ডাক্তার মাসুদ রানাকে দেখাতে অসংখ্য রোগী ৫০০ টাকা করে ভিজিট দিয়ে টোকেন হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। তবে চেম্বারে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যায় ভেতরের চিত্র। রোগীদের রেখেই তড়িঘড়ি করে গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন মাসুদ রানা।
একপর্যায়ে কৌশলে চেম্বার থেকে বের করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ক্যামেরার সামনে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন তিনি।

মাসুদ রানা জানান, চিকিৎসা দেওয়ার মতো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা অ্যাকাডেমিক শিক্ষা তার নেই। তিনি পড়াশোনা করেছেন জেনারেল লাইনে। তবে তার বাবা পল্লি চিকিৎসক হওয়ায়, বাবার কাছ থেকে মূলত ওষুধের নাম ও পরিচয় হাতে-কলমে শিখেছেন। আর সেই যৎসামান্য ধারণাকে পুঁজি করেই বছরের পর বছর ধরে মানুষের জীবন নিয়ে এই বিপজ্জনক খেলা খেলছেন তিনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল ব্যাপারী বলেন, আমাদের প্রজেক্টে বসে একজন ডাক্তার রোগী দেখেন, এমনটা আমি আগে শুনেছিলাম। তবে আমার জানামতে তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নেই। তাই আমার পরিচিত কেউ সামনে পড়লে আমি নিজেই তাদেরকে এই নামধারী ভুয়া ডাক্তারের কাছে যেতে নিষেধ করি।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

‘মোঘল আমলের জিনের বাদশা’ গ্রেপ্তার

প্রতারণার শিকার হওয়া প্রজেক্টের স্থানীয় বাসিন্দা পলি আক্তার বলেন, এই ভুয়া ডাক্তার শুরুতে প্রজেক্টের ভেতরে আমাদের বাসার পাশেই একটা বাসা ভাড়া নিয়েছিল। সেখানে সে চিকিৎসার নামে মানুষের সাথে চরম প্রতারণা শুরু করে। পরবর্তীতে আমরা স্থানীয়রা একজোট হয়ে তাকে ওই এলাকা থেকে বের করে দেই। পরে শুনেছি, সে প্রজেক্টের একদম শেষ মাথায় অন্য একটা বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে আবারও এই প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের উচিত এই প্রতারকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

​জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) রোমান বাদশা বলেন, প্রথমত, একজন পল্লি চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন বা ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই। দ্বিতীয়ত, মাসুদ রোগ নির্ণয়ের জন্য যে ধরনের ডিভাইস বা মেশিন ব্যবহার করছেন, বাংলাদেশে সেটির কোনো অনুমোদন নেই। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় এই ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দ্রুতই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে