বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬ , ০১:২৪ এএম
বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পলাতক, ফ্যাসিস্ট ও লুটপাটকারী বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নরকে জোর জবরদস্তি করে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারে বসানোর ফলাফল ভালো হবে না।
তিনি বলেন, যে গ্রাহকের পাঁচটি শেয়ার আছে, সেও ইসলামী ব্যাংকের একজন মালিক। সুতরাং একটি সমৃদ্ধ ব্যাংক দখল হয়ে যাবে, গ্রাহকরা বসে থাকবে না। এজন্য গ্রাহক হিসেবে আমাকেও রাজপথে নামতে হতে পারে।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৫টায় সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পেলেও দেশ ও জনগণ ভালো নেই। শিশু ধর্ষণ ও হত্যা, খুন, চুরি-ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। আর সরকার ব্যস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন স্তরে দলকানাদের বসাতে।
শফিকুর রহমান বলেন, স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ শাসনের ইচ্ছা থাকলে পরিণতির জন্যও ভাবতে হবে। জুলাই বারবার ফিরে আসবে। আমরা আর কোনো মূল্যবান জীবন হারাতে চাই না।
সরকারকে উদ্দেশ করে জামায়াত আমির বলেন, তারা জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। প্রায় ৭০ শতাংশ গণভোট ‘হ্যাঁ’ দাতাদের অপমান করে তারা ফ্যাসিবাদের পথেই হাঁটছে। এতে জনগণ বিক্ষুব্ধ হচ্ছে। এর ফল তাদেরকেই বহন করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পাঁচটি ব্যাংক নিয়ে সমন্বিত ব্যাংক হয়েছিল, সেই ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকার জন্য ঘুরছেন, সমাধানের উদ্যোগ নেই। সরকার সমৃদ্ধ ইসলামী ব্যাংক দখলে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাতের অন্ধকারে জুম মিটিং করে ইসলামী ব্যাংক দখলের বন্দোবস্ত হচ্ছে হচ্ছে। এক মাসের মাথায় আবারও জ্বালানি তেলের দামও বাড়ানো হয়েছে, তাও রাতের আঁধারে। এটাও কি রাতের সরকার—এমন প্রশ্ন জনগণ করতে পারে।
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান।
সমাবেশে সিলেট মহানগর জামায়াতের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আরটিভি/এমএম