গণমাধ্যমে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষোভ করেছেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে শহরের গর্জনতলীস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে আবারও দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়। তারা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। আধঘণ্টা ধরে চলা সড়ক অবরোধের কারণে রাস্তার দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে জেলার শীর্ষ নেতারা এসে রাস্তা থেকে কর্মীদের তুলে দেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তিন মাসের মাথায় বিএনপি সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা এবং দায়িত্ব পালনে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা বৃদ্ধির স্বার্থে বর্তমান পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো বলেন, কোন কোন সিদ্ধান্ত নিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। এটা ওনার চিন্তা হতে পারে- আমার সন্দেহ হচ্ছে। এটা যদি ওনার চিন্তা হয়ে থাকে তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তিনি (দীপেন দেওয়ান) যাতে আমাদের সাথে থাকেন সে সিদ্ধান্ত দেবেন।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে তৎকালীন উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান দলত্যাগ করলে বিএনপিতে যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজন দেখা দেয়। সে সময় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ২০ বছরের জুডিসিয়াল সার্ভিসের চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন দীপেন দেওয়ান। তবে রাজনীতিতে প্রবেশের পরপরই নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন তিনি।
পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। পরে একই দিন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
আরটিভি/এমএইচজে




