বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ , ০৭:২৮ পিএম
নোয়াখালীর হাতিয়ায় জেলে বাবার জন্য খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে মেঘনা নদীতে নিখোঁজ হওয়ার ২৮ ঘণ্টা পর শিশু তামিমের (৬) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে সোনাদিয়া ইউনিয়ন সংলগ্ন চর আতাউরের পশ্চিম পাশে মেঘনা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন কোস্টগার্ডের ডুবুরি দলের সদস্যরা।
এর আগে মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চরচেঙ্গা গ্রামের পাশে মেঘনা নদীতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত তামিম ওই এলাকার জেলে শাহাদাত হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো মাছ ধরতে নদীতে যান শাহাদাত হোসেন। দুপুরে বাবার জন্য খাবার নিয়ে নদীর তীরে যায় তামিম। খাবার খাওয়ার পর বাবা নদীর পাড়ে অবস্থান করলেও তামিম তার এক চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত নদীতে পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হয় সে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও হাতিয়ায় ডুবুরি দল না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পানির নিচে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। পরে বুধবার সকালে ভোলা থেকে কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরও নিখোঁজ তামিমের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এরপরে বিকেলের দিকে সোনাদিয়া ইউনিয়ন সংলগ্ন চর আতাউরের পশ্চিম পাশে মেঘনা নদীতে মাছ ধরা জেলেরা তার তামিমের মরদেহ দেখে কল দিলে কোস্টগার্ড গিয়ে উদ্ধার করে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাতিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের নিজস্ব কোনো ডুবুরি দল না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পানির নিচে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। তবে বুধবার বিকেলে কোস্টগার্ড শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবরে পশ্চিম চরচেঙ্গা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা ও স্বজনরা। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
আরটিভি/এমএইচজে