মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ০৪:০৪ এএম
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আদিত্যপুর ও আব্দাফৌজদা গ্রামে দুপক্ষের পূর্ব বিরোধের জেরে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সেলু মিয়া (৫৫) ও হেলাল মিয়া (৩৮) নামে দুজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে মাইকিং করে দুপক্ষের লোকজন স্থানীয় আদিত্যপুর হাওরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সন্ধ্যার পর ফের সংঘর্ষে দুজন নিহত হন।
এ ছাড়া দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেলের আঘাতে কদর আলী (৭০), লুৎফুর রহমান (৩০), আতাউর রহমান (২৫), কুহিনুর (৪১), জাহিদ মিয়া (৫৫), রিমন (১৮), অলফুজ মিয়া (৫০), খলিল মিয়া (৩০), সুহেল মিয়া (৩০), হাবিব মিয়া (২৫), সিমন (১৮) ও হান্নানসহ (৫০) অন্তত ৪০ জন আহত হন।
তাদের মধ্যে কয়েকজনকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল এবং এক নারীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাহুবল উপজেলার ৩নং সাতকাপন ইউনিয়নের আদিত্যপুর গ্রামের মর্তুজা মিয়ার ছেলে আক্তার মিয়া ও নাসির মিয়ার সঙ্গে কবরস্থানে বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে আরিছপুর গ্রামের মিলন মিয়া, হারিছ মিয়ার ছেলে সারু মিয়া ও এখলাছ মিয়ার প্রায় দুই মাস আগে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার (১২ জুন) দুপক্ষের মধ্যে আবারও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে মাইকিং করে দুপক্ষের লোকজন স্থানীয় আদিত্যপুর হাওরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বাহুবল মডেল থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এরপর সন্ধ্যায় স্থানীয় ডুবাঐ বাজারে এলাকায় পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় গুরুতর আহত সেলু মিয়া ও হেলাল মিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরেকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দুপুরের সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সন্ধ্যার পর সমাধানের জন্য উভয় পক্ষের থানায় আসার কথা ছিল। তবে পরবর্তীতে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
আরটিভি/এসএস