মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ০৯:৪৬ পিএম
গাজীপুরের কালিয়াকৈর দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে পরিচিত হলেও অথচ অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের সংকটের কারণে পৌরবাসীর ভোগান্তির যেন শেষ নেই। সোমবার (১৫ জুন) রাত থেকে শুরু হওয়া অতিবৃষ্টিতে পুরো পৌরসভা এখন পানিবন্দি। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য সড়ক, বাসাবাড়ি ও দোকানপাট। কোথাও কোথাও পানি কোমরসমান উচ্চতায় পৌঁছেছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দীর্ঘদিনের ড্রেনেজ সমস্যার কারণে মাত্র দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ২০০১ সালে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। এছাড়া এখানে প্রায় তিন শতাধিক শিল্প-কারখানা রয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর থেকে পৌরসভাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে পৌরবাসীর অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণেই জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
ভোর থেকে টানা দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন পল্লীবিদ্যুৎ, হরিণহাটি ও বিশ্বাসপাড়াসহ আশপাশের মহল্লার বসতবাড়ি ও বিপণিবিতান পানিতে তলিয়ে যায়। সড়ক ডুবে যাওয়ায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে না পারায় বেশ কিছু পোশাক কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডাইনকিনি, হরতকিতলা ও মাইওয়ান মোড় এলাকার প্রধান সড়ক, দোকানপাট ও স্কুল পানিতে ডুবে গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে। কিছু এলাকায় ড্রেনের পানির সঙ্গে ডাইং কারখানার দূষিত বর্জ্য মিশে ছড়িয়ে পড়ায় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাহিদ বলেন, ভোরে বৃষ্টি শুরু হতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘরের সামনে পানি চলে আসে। বাজার করা বা রান্নার সুযোগ নেই, অফিসের পথেও যাওয়া যাচ্ছে না। বছরে একাধিকবার এমন পরিস্থিতির শিকার হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান দেখছি না।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.এইচ.এম. ফখরুল হোসাইন বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কারের ক্ষেত্রে কারো গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে