images

দেশজুড়ে

নাকে চেতনানাশক স্প্রে করে মুহূর্তেই স্মৃতিভ্রম, অতঃপর...

রোববার, ২১ জুন ২০২৬ , ০৫:০৫ পিএম

নওগাঁয় বহুল আলোচিত ও ভয়ঙ্কর রাসায়নিক ‘স্কোপোলামিন’ বা ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ (Devil's Breath) ব্যবহারকারী একটি চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। 

নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও প্রযুক্তির সহায়তায় টাঙ্গাইল জেলা থেকে শনিবার (২০ জুন) রাতে  তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ইতোমধ্যে নওগাঁর বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রেপ্তারকৃতদের শনাক্ত করেছেন।

গ্রেপ্তার হলেন— মো. আবু হাসান, মো. বাবু এবং মো. সবুজ। তাদের সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার চনপাড়া এলাকায়।

​নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও প্রযুক্তির সহায়তায় টাঙ্গাইল জেলা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ইতোমধ্যে নওগাঁর বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রেপ্তারকৃতদের শনাক্ত করেছেন।

​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন স্থানে একদল অপরাধী বয়স্ক নারীদের টার্গেট করে আসছিল। চক্রটি ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ খ্যাত বিশেষ কেমিক্যাল কৌশলে ভিকটিমের নাকে প্রয়োগ করতো।

আরও পড়ুন
Web-Image18

নওগাঁয় ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই

​এই কেমিক্যাল শরীরে প্রবেশ করার পর ভুক্তভোগী সাময়িকভাবে স্মৃতিভ্রম হয়ে পড়েন এবং অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যান। সম্মোহিত অবস্থায় ভিকটিম নিজেই নিজের কানের দুল, স্বর্ণালঙ্কার কিংবা বাসার আলমারি খুলে টাকা-পয়সা অপরাধীদের হাতে তুলে দিতেন।

​নওগাঁ থানায় এই সংক্রান্ত মোট তিনটি মামলা দায়ের হওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ।

gnooo
সিসি ফুটেজ থেকে নেওয়া চক্রের ছবি

 

​তদন্তের অংশ হিসেবে নওগাঁ জেলা পুলিশের একটি দল বেশ কয়েকবার নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালায়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির চুলচেরা বিশ্লেষণ ও ডেটাভিত্তিক এনালাইসিসের মাধ্যমে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, এই চক্রটি ২০ জুন (২০২৬) টাঙ্গাইলে নতুন একটি অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

​খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি শক্তিশালী দল টাঙ্গাইলে রওনা হয়। এরপর টাঙ্গাইলের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে হাতেনাতে চক্রের ওই ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন
MN

মান্দায় ভূমি সেবা সংক্রান্ত গণশুনানী অনুষ্ঠিত, খাজনার প্রস্তাব ইউএনওর

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকাকে কেন্দ্র করে এই অপরাধী চক্রটির প্রায় ৮ থেকে ১০টি আলাদা গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষকে এই কেমিক্যালের মাধ্যমে সম্মোহিত করে লুটপাট চালায়। ইতোমধ্যে তারা নওগাঁ, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা ও ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কমপক্ষে ১০টি বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত করার কথা স্বীকার করেছে।

​এ প্রসঙ্গে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, অপরাধের সময় তারা একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল বা ছক ব্যবহার করে। চক্রের প্রথম সদস্য অত্যন্ত নিরীহ সেজে বয়স্ক কোনো নারীর কাছে গিয়ে সাহায্য চায়। ঠিক সেই মুহূর্তে দ্বিতীয় আরেকজন এসে ভিকটিমকে কথায় ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করে। এর মাঝেই তৃতীয় সদস্য এসে ভিকটিমের ওপর ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ বা বিশেষ কেমিক্যাল স্প্রে করে দেয়।

​কেমিক্যাল ফুসফুসে প্রবেশ করার পরপরই ভিকটিম নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং অবচেতনভাবেই অপরাধীদের কথামতো নিজের সব মূল্যবান জিনিসপত্র তাদের হাতে সঁপে দেন।

​পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম আরও জানান, নওগাঁ জেলা পুলিশ সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় এবং এই ধরনের অভিনব ও ভয়ঙ্কর অপরাধ দমনে অত্যন্ত দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

আরটিভি/এমএম