বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ , ১২:৫১ পিএম
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় পেঁয়াজের বাজারে ব্যাপক দরপতনে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, সংরক্ষণজনিত ক্ষতি এবং বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যহ্রাসের কারণে এবার বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন পেঁয়াজ চাষিরা।
কৃষকদের অভিযোগ, অন্যান্য বছর এ সময়ে প্রতি মণ পেঁয়াজ ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে জাতভেদে মাত্র ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে দাম কমেছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা।
চাষিরা জানান, দীর্ঘদিন সংরক্ষণে রাখার ফলে পেঁয়াজ শুকিয়ে ওজনে কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি অনেক পেঁয়াজ পচেও নষ্ট হচ্ছে। এর সঙ্গে বাজারে ওজন নিয়ে কারসাজির অভিযোগও রয়েছে। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
বানেশ্বর হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুল মমিন বলেন, এখন এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে মাত্র এক কেজি গরুর মাংস কেনা যায়। পরিবারের জন্য সবজি কিনতেও আরও এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয়। গত ২০ বছরের মধ্যে এই প্রথম এত কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, গত ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এ সময়ে পেঁয়াজের এত কম দাম আর দেখা যায়নি। বাজারমূল্য উৎপাদন খরচের নিচে নেমে যাওয়ায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের আর্থিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
খায়রুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার এ সময়ে পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি। এ বছর প্রচুর পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। কৃষকরা ঘরে পেঁয়াজ রাখতে পারছেন না, পচে নষ্ট হচ্ছে। যার দুই মণ পেঁয়াজ বিক্রি করার কথা, সে পাঁচ মণ বিক্রি করছে। এতে বাজারে সরবরাহ বেড়ে দাম কমে গেছে। মোকামে বেশি দামে বিক্রি করতে না পারলে আমরা বেশি দামে কিনতেও পারব না।
কৃষকরা পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা কৃষি অফিসর স্মৃতি রানী সরকার বলেন, বাজারে পেঁয়াজের জোগান বেশি থাকায় দাম কমেছে। অনেকের পেঁয়াজ পচে নষ্ট হচ্ছে, তাই তারা দ্রুত বেশি পরিমাণে বিক্রি করছেন। অতিরিক্ত আমদানির কারণেও দরপতন হয়েছে। তবে কিছুদিন পর দাম বাড়তে পারে বলে আশা করছি।
রাজশাহীর সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন বলেন, রাজশাহীর মধ্যে পুঠিয়া দুর্গাপুর তাহেরপুর সেখানে খুব ভালো পেঁয়াজ উৎপাদন হয় এবং পুঠিয়ায় পেঁয়াজের উৎপাদন খরচটা একটু বেশি হয়। আমরা কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সরাসরি দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে পারিনা। ছাড়াও ওই তিন উপজেলায় প্রায় ১০০ টি পেঁয়াজ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কৃষকদের মাঝে ঘর দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য কাজ করছি আশা করি কৃষকরা সামনে ভালো একটা দাম পাবেন।
আরটিভি/এমএ