বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ , ০৮:২৬ পিএম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সৌদি আরব প্রবাসী শফিউল আলমের দীর্ঘ ২৫ বছর পর আগামী জুলাইয়ে পরিবারের কাছে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, জীবিত অবস্থায় আর দেশে ফেরা হলো না তার। ফিরবেন কফিনবন্দী হয়ে।
নিহত শফিউল আলম ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ৩ নং খাদেমপাড়া ওয়ার্ডের আরিফুর রহমানের পুত্র।
জানা গেছে, শফিউল আলম দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। প্রবাসে থেকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের পরিবারের স্বপ্নই পূরণ করেননি, দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠিয়ে তিনি পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করতেও ভূমিকা রেখেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৪ জুন) সৌদি আরব সময় রাত প্রায় ২টার দিকে হঠাৎ করে তার বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৫ বছর।
তার মৃত্যুতে স্ত্রী, তিন কন্যা ও একমাত্র পুত্র সন্তানসহ স্বজনরা ভেঙে পড়েছেন। যে মানুষটি বছরের পর বছর প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, সেই মানুষটির নিথর দেহ দেশে ফিরবে— এমন বাস্তবতা মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শফিউল আলম ছিলেন অত্যন্ত সৎ, পরিশ্রমী ও বিনয়ী একজন মানুষ। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তার অবদান ছিল। প্রবাসে থেকেও তিনি গ্রামের মানুষের খোঁজখবর নিতেন এবং অসহায়দের সহযোগিতা করতেন।
এলাকাবাসী বলেন, শফিউল ভাই আগামী মাসে দেশে আসবেন বলে পরিবারের সবাই অপেক্ষায় ছিল। সন্তানরা বাবাকে বরণ করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু সেই অপেক্ষা আজ পরিণত হয়েছে শোকে। এটি শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, পুরো এলাকার জন্য ক্ষতি।
তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীরা শোক প্রকাশ করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকেই তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকবার্তা দিচ্ছেন।
প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। জীবনের সিংহভাগ সময় পরিবারের সুখের জন্য বিদেশের মাটিতে কাটিয়ে দেওয়া শফিউল আলমও ছিলেন সেইসব নিরলস যোদ্ধাদের একজন। কিন্তু জীবনের শেষ মুহূর্তে প্রিয় মাতৃভূমি ও পরিবারের সান্নিধ্য আর পাওয়া হলো না তার।
সীতাকুণ্ডবাসী আজ একজন প্রিয় মানুষকে হারানোর বেদনায় শোকাহত। সবাই মরহুম শফিউল আলমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
নিহত শফিউল আলম এর মেয়ের জামাই মামুনুর রশিদ বলেন, শফিউল আলমের মরদেহ খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।
তিনি জানান, সীতাকুন্ড প্রেস ক্লাবের দুইজন সাংবাদিক মরদেহ আনার ব্যাপারে তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন। এ জন্য জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার ভূমিসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আরটিভি/এমএম