শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ , ০৬:৪৫ পিএম
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় জোবায়ের হোসেন পারভেজ নামে এক যুবলীগ কর্মীর গলা ও হাত বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে উপজেলার গোপাল ইউনিয়নের নুর আহাম্মদ মাস্টার বাড়ির সামনে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, স্থানীয় দোকান নিয়ে বিরোধের জের ধরে পারভেজকে কুপিয়ে খুন করেছে ছাত্রলীগ কর্মী মামুন ও শাহাদাত।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও স্থানীয়রা জানায়, গণ-অভ্যুত্থানের পর ডজনখানেক মামলায় পারভেজ ও মামুন দীর্ঘদিন ফেনীতে হাজতবাস করেন। ওই সময়ে আদালতের নানা ধরনের খরচের ব্যয় পারভেজ বহন করলেও মামুন কোনো টাকা দেননি। দুজন হাজতবাস থেকে মুক্তির পর স্থানীয় দোকান নিয়ে বিরোধ ঘনীভূত হয়ে ওঠে। পরে শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ৯টার দিকে বাড়ির সামনে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে যোবায়ের মামুনকে হাতে থাকা লাইট দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। বিষয়টি রাতেই বাড়ির লোকজন একত্রিত হয়ে সুরাহা করে দেন।
নিহতের বাবা আবু তাহের গণমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার রাত ১টার দিকে সবশেষ তিনি ছেলে জোবায়ের হোসেন পারভেজকে দেখেন। শনিবার সকালে নিজ বাড়ির সামনে তার গলায় কোপ ও হাত বিচ্ছিন্ন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, একই গ্রামের শাহাদাত হোসেন ও মামুনুর রশিদ মামুনের সঙ্গে দোকান সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সম্প্রতি পারভেজের ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়েছিল। ওই বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের জানান, নিহত পারভেজ ও অভিযুক্ত মামুন এবং শাহাদাতের নামে থানায় বেশ কিছু মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগেও তারা জেলপার্টনার ছিল। জামিনে বের হয়ে আসার পর উভয়ের মাঝে বিরোধ বেড়েছে। ওই বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং নিহতের পরিবার ও প্রতিবেশিরা এমনটাই দাবি করছে। মরদেহটি উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে আইনি ব্যবস্থা নেবে।
আরটিভি/এমএইচজে