চাঁদা না পেয়ে মাঝিকে ব্যাপক মারধর, নৌকা পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ , ০৬:৩৫ পিএম


চাঁদা না পেয়ে মাঝিকে ব্যাপক মারধর, নৌকা পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি
ছবি: আরটিভি

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার তিলোরাকান্দি নৌকা ঘাট এলাকায়  দাবি করা চাঁদা না পেয়ে যাত্রিবাহী নৌকার মাঝিকে মারপিট ও নৌকা পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ২০ জুন সকালে দোয়ারাবাজার উপজেলার তিলোরাকান্দি ঘাটের পাকা রাস্তার মাথায় এ ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় আহত নৌকার মাঝি মো. উমর আলী (৪৪) বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর গ্রামের মো. উমর আলী দীর্ঘ ২০ বছর যাবত মেসার্স জে-বি শিপিং লাইন্সের মালিকানাধীন এম.ভি. ‘জয়-বিজয়’ নামে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা পরিচালনা করছেন। নৌযানটি বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তর থেকে বৈধ রুট পারমিট ও সার্ভে সনদ নিয়ে এলাকার চুকলাপুর ও তিলোরাকান্দি ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে সুনামগঞ্জ শহরের বালুরমাঠ পর্যন্ত পরিবহন করছিল। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে তিলোরাকান্দির একটি চাঁদাবাজ চক্র নৌকার মাঝি ও মালিকপক্ষের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদাবাজদের দাবি- তাদেরকে টাকা না দিলে এই রুটে এম.ভি. ‘জয়-বিজয়’ চলাচল করতে পারবে না। চাঁদা না দিলে নৌকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হবে।

এম.ভি. ‘জয়-বিজয়’-এর মাঝি থানায় করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন সকালে তিলোরাকান্দি ঘাটে পৌঁছলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তিলোরাকান্দি গ্রামের ফুল মিয়া (৪৫), সুরুজ মিয়া (৪০), পলাশ মিয়া (৪০), ফারুক মিয়া (৩৮), সাদ্দাম মিয়া (৩৫)সহ ৫/৭ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, রামদা, লাঠি ও লোহার পাইপ নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হন। এ সময় অকথ্য ভাষায় তাদেরকে গালিগালাজ করে ও দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

আরও পড়ুন

অভিযোগো আরও উল্লেখ করা হয়, চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে নৌকার মাঝি উমর আলীর ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় বাঁশের লাঠির আঘাতে তিনি গুরুতর জখম হন। চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা নৌকাটি ঘাট থেকে জোর করে ভাসিয়ে দেয়। এ সময় হামলাকারীরা প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে বলেন, চাঁদা না দিলে এই ঘাটে আর কোনোদিন নৌকা ভেরাতে দেওয়া হবে না। পুনরায় যদি কোনোদিন নৌকা ভেরানো হয়, তবে নৌকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হবে। এই ঘটনার পর থেকে ফুল মিয়াসহ অন্যান্য অবৈধভাবে জোরপূর্বক আরেকটি নৌকা পরিচালনা করছে।

তবে অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে ফুল মিয়া বলেন, এলাকার মানুষ আমাকে নৌকা চালানোর দায়িত্ব দিয়েছে। জে-বি শিপিং লাইন্সের নৌকা এই ঘাটে চলাচল করতে না পারায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। আমি কোনো টাকা দাবি করিনি, কাউকে মারধর করিনি। পুলিশ এসে তদন্ত করে গেছে।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, যাত্রী পরিবহনকারী একটি নৌযান চলাচলে বাঁধা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission