images

দেশজুড়ে

৪ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর নির্মাণ কাজ, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ , ০৭:০৪ পিএম

ঢাকার ধামরাইয়ে চার বছরেও শেষ হয়নি পশ্চিম দেপাশাই বংশী নদীতে নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজ। এতে ভোগান্তিতে পরেছেন স্কুল, কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চলাচলের জন্য বাঁশের সাকো নির্মাণ করলেও সেটিও বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পরেছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাকো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি দুই পাড়ের মানুষের।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সেতুটির কাজ চলমান। তবে টেন্ডারে দেওয়া সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। 

স্থানীয়রা জানান, দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষের পারাপারের জন্য ২০০৪ সালের দিকে বংশী নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ করেন তৎকালীন বিএনপি সরকার। ব্রিজটি সরু হওয়ায় ২০২২ সালের ৩১ মে ব্রিজটি ভেঙ্গে নতুন করে ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য। 

উপজেলা এলজিইডি দপ্তর থেকে জানা যায়, উদ্বোধনের পর কাজ শুরু করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামার জান আনোয়ারা জেবি। তাদের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২৩ জুন ২০২৩। কিন্তু তারা পূর্বের ব্রিজ ভেঙ্গে মালামাল নিয়ে চলে যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় স্থানীয়দের ভোগান্তি। পরবর্তীতে ৬ নভেম্বর ২০২৪ সালে রিটেন্ডারে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৬৮ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটির নতুন চুক্তিতে কাজ পায়  মেসার্স উপকূল করপোরেশন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

চাঁদা না পেয়ে মাঝিকে ব্যাপক মারধর, নৌকা পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি

তাদের নির্মাণকাজ শেষ করার কথা রয়েছে ১২ আগষ্ট ২০২৬ এর মধ্যে। প্রায় ২ বছর শেষ হলেও ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়নি। ধীর গতিতে কাজ করায় ব্রিজ নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা রডের মধ্যে পরেছে মরিচা। এর ফলে কাজের মান নিয়ে দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে সংঙ্কা। এতে দুই পারের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। 

স্থানীয় একজন মাদরাসা শিক্ষক জানান, ব্রিজটি নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় ব্যবসা বানিজ্যে বাঁধাগ্রস্ত হওয়াসহ কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা পরেছে সবচেয়ে বেশি বিপাকে। শিশুরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বার বার কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিলেও কোনো সাড়া দিচ্ছে না।

রহিমা খাতুন নামে এক নারী বলেন, ছেলেমেয়েদের নিয়ে স্কুলে যেতে হয় বাঁশের নড়বড়ে সেতু দিয়ে। অনেক সময় পা আটকে যায়। তাছাড়া এর আগে একটি শিশু পানিতে পড়ে গিয়েছিল। কাজটা দ্রুত শেষ হলে সবার উপকার হয়। 

ধীরগ‌তির কাজ সম্পর্কে জানতে ঠিকাদার আমজাদ হোসেনকে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ধামরাই উপজেলা প্রকৌশলী মিশুক কুমার দত্ত বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ সামাজিক কিছু কারণে কাজের ধীরগ‌তি সৃষ্টি হয়েছে তবে দ্রুত কাজ করার জন্য আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি।

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ায় নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ চলমান। যাতে কাজ দ্রুত হয় সে বিষয়ে ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আরটিভি/এমএইচজে