শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ , ০৮:৫৯ পিএম
নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে দোকানের সামনে সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গোলাগুলিতে ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং দুটি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকায় সকাল থেকে রাতব্যাপী এ হামলা, গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন- মোহাম্মদ ইমাম (২৪), আশিক (২২), নাহিদ (২০), নাঈমুল হাসান (১৯), আকাশ (২৪) ফিরোজ (২০), ফয়েজ (২৪), ইমাম (৩০), সোহেল (২৩), কামরুল (২৮), আব্দুর রহমান (১৮), ফরাদ (২৪), রাসেল (১৭), মনির হোসেন (৬০)। সংঘর্ষে আহতদের ঢাকা ও জেলা-উপজেলাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পরে পুলিশ, র্যাব ও ডিবি ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এলাকার এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হালিম ও আবুল হোসেন জানান, সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে সোনাপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও দোকানের সামনে নোয়াগাঁও ও পালপাড়া গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এ পর্যন্ত তিন দফা হামলা, ভাঙচুর, গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব শত্রুতাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে মারামারি হয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার সকালে দেওটি ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের জাগিদার বাড়ির বাবুল হোসেনের ছেলে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী রেদওয়ানের (২২) সঙ্গে নোয়াগাঁও গ্রামের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আশিকের সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। মূলত ওই ঘটনা থেকে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ হামলার নেতৃত্ব দেন পালপাড়া গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে ছাত্রলীগ কর্মী রেদওয়ান, মিজানের ছেলে মামুন ও হাশেমের ছেলে বিজয়।
সোনাইমুড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নারগিছ আক্তার জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও ডিবি মাঠে রয়েছে।
সোনাইমুড়ি থানার ওসি মো. কবির হোসেন জানান, নোয়াগাঁও দোকানের সামনের এ সংঘর্ষ আপাতত নিয়ন্ত্রণে আছে। এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত প্রায় দেড় শতাধিক লোককে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। তবে পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।
আরটিভি/ এসকেডি