শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ , ০৯:০৭ পিএম
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন খামারিরা। অনেক এলাকায় গ্রামবাসী রাত জেগে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন। গত ১০ দিনে তিনটি গ্রাম থেকে ১০টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন গ্রামে প্রায়ই মূল্যবান সম্পদ চুরির ঘটনাও ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে থানা পুলিশের কার্যকর টহল না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সর্বশেষ শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে উপজেলার আগমুন্দিয়া গ্রামের সৈয়দ আলীর বাড়ি থেকে পাঁচটি গরু চুরি হয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ টাকা। একই রাতে পার্শ্ববর্তী বুজিডাঙ্গা মুন্দিয়া গ্রাম থেকেও একটি গরু চুরি হয়।
এর আগে ২০ জুন ভাতঘারা গ্রামের আব্দুস ছালামের বাড়ি থেকে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় গরু চুরি হয়। ১৫ জুন একই গ্রামের নায়েব আলীর চার লাখ টাকা মূল্যের তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। ওই রাতেই একই গ্রামের আব্দুস সামাদের বাড়ি থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত আলমসাধু গাড়িও চুরি হয়।
এরই মধ্যে ২৫ জুন রাতে ভাতঘারা গ্রামের মানুষ গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে আটক করেন। পরে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে যায়। তবে তাদের বিরুদ্ধে গরু চুরির কোনো আলামত না পাওয়ায় ৫৪ ধারায় মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আটক তিনজনের বাড়ি পাশের বনখিদ্দা গ্রামে। আটকের পর তারা দাবি করেন, রাতে ডাবক্ষেতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভাতঘারা গ্রামে এসেছিলেন।
ভাতঘারা গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, চোর ঠেকাতে আমরা পালাক্রমে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। পাহারা দেওয়ার সময় তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশের কোনো টহল দল কখনো গ্রামের দিকে আসে না।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, গরু চুরির বিষয়ে আমাদের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেনি। তবে লোকমুখে বিষয়টি শোনার পর বাড়তি নজরদারির জন্য পুলিশ ক্যাম্পগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গরু চোর সন্দেহে গ্রামবাসীর হাতে আটক তিনজনকে উদ্ধার করে থানায় আনার পর ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। চুরি প্রতিরোধে পুলিশি টহলও বাড়ানো হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে