images

দেশজুড়ে

পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে ৮৮ জনের সঙ্গে ‘নয়ছয়’

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ , ০৪:৩২ পিএম

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সুনামগঞ্জের একাধিক উপজেলায় ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার (ইজিপি) দরপত্র বাছাইয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক ঠিকাদার সূত্রে জানা গেছে চলতি জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে দরপত্র বাছাইয়ের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় নড়েচড়ে বসেছে এলজিইডির জেলা কর্তৃপক্ষ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে এলজিইডির সুনামগঞ্জ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ওই দরপত্র বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

ঠিকাদারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইজিপিতে দরপত্র যাচাই বাছাইয়ের কৌশলে ভয়াবহ অনিয়ম করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার জন্য এমন করেছেন সংশ্লিষ্টরা। চলতি জুন মাসে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পর দোয়ারাবাজারেও এমন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠার পর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দরপত্র স্থগিত করা হয়েছে। দোয়ারাবাজার উপজেলার দরপত্র যাচাই করার প্রক্রিয়ায় আছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলের আওতায় এলটিএম পদ্ধতিতে (সর্বনিম্ন দরদাতা পদ্ধতি) ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে করা সড়কের ফুটপাত নির্মাণ করার জন্য আহ্বান করা হয়। দরপত্রে বিভিন্ন এলাকার ৯৩ জন ঠিকাদার অংশ নেন। এর মধ্যে ৮৮ জনকে টেকনিক্যালি নন-রেসপন্সিভ (টেন্ডারের মৌলিখ শর্ত অনুসরণ না করা) করে মাত্র ৫ জন ঠিকাদারকে টেকনিক্যালি রেসপন্সিভ দেখিয়ে লটারি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এলজিইডির সুনামগঞ্জ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, এই ঘটনায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রকৌশলী রজত কান্তি দাসের কাছে জবাব চাওয়ার পর তিনদিন আগে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে ওই দরপত্র বাতিল করেছেন।

ঠিকাদাররা জানান, ইজিপি সিস্টেমে আহ্বান করা আইটিটি (ইনস্ট্রাকশন টু টেন্ডারস) ১২০৩২৫৫ নম্বর দরপত্রে ৯৩ জন দরদাতা অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে ৮৮ জন ঠিকাদারকেই নন-রেসপন্সিভ দেখিয়ে মাত্র ৫ জনকে রেসপন্সিভ হিসেবে বিবেচনা করে লটারির আয়োজন করা হয়। লটারির পর স্থানীয় ঠিকাদাররা বিষয়টি জানতে পারেন।

জেলা বিএনপির সদস্য ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঠিকাদার সফিকুল ইসলাম বলেন, এমন অনিয়মের ঘটনা সুনামগঞ্জে আগে কোনোদিন ঘটেনি। দরপত্রে কিনেছিলেন ৯৩ জন, কিন্তু পাঁচজনকে বাছাই করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি আমার কাছে স্বীকার করে বলেছেন- চাপে পড়ে তিনি এই কাজটি করেছেন। ঠিকাদার আশিকুর রহমানের যোগসাজসে মেকানিজম করেছে এলজিইডি অফিসের হিসাবরক্ষক খোন্দকার আকরাম হোসেন। তবে কাজ দেওয়া হয়েছিল আবার আওয়ামী লীগ নেতার ভাই মাছুম মিয়ার এম এস করম আলী অ্যান্ড সন্স-এর নামে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় ও অভিযোগ ওঠায় দরপত্রটি নাকি বাতিল করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশ: সেই গুচ্ছগ্রামের ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

বিশ্বম্ভরপুর  উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুর রহমান জানান, তিনি ঠিকাদারি করেন, ওই ইজিপির টেন্ডারে তিনিও অংশ নিয়েছেন। কোনো ধরনের অনিয়মের বিষয়ে জানা নেই তার।

এলজিইডির  বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার অফিসের হিসাবরক্ষক খোন্দকার আকরাম হোসেন বলেন, সফটওয়ারে ত্রুটির কারণে এই সমস্যা হয়েছিল। এলজিইডি অফিসের কোনো পছন্দের ঠিকাদার নেই।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী রজত কান্তি দাসকে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এলজিইডির সুনামগঞ্জ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ইজিপির দরপত্রে এমন হতে পারে না, আমার ধারণা এটা ইচ্ছাকৃত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী দরপত্রে অংশগ্রহণকারী সবাই লটারিতে থাকে। কাগজপত্রে বা অন্য কোনোভাবে নন-রেসপন্সিভ হলে, তাকে বাতিল করে অন্যদের মধ্যে লটারি হয়। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেই জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় আলোচনা করেছি। উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে, এখনও জবাব পাওয়া যায়নি। দরপত্রের মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও (ইউএনও) এই বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন। দোয়ারাবাজার উপজেলায়ও এরকম অভিযোগ পাওয়া গেছে, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।

বিশ্বম্ভরপুরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহফুজুর রহমান। তাকে কয়েকবার ফোন করলেও মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।

আরটিভি/এমএইচজে