মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ , ০১:২১ পিএম
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার টপটেন জেনারেল হাসপাতাল প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরটিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তে হাসপাতালটির লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ঘাটতির বিষয়টি উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও ১২ দিন পরও সেটি চালু থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
অবশেষে হাসপাতালটি বন্ধে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
পিরোজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ মে সকালে টপটেন জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে পিরোজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে হাসপাতালটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্র, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১৭ জুন সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে হাসপাতালটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্দেশ জারির ১২ দিন পরও সেখানে রোগী ভর্তি, চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং বিভিন্ন রোগ নির্ণয় পরীক্ষা চলতে থাকে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে হাসপাতালটির কার্যক্রম প্রকাশ্যে পরিচালিত হলেও এতদিন তা বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক নজরদারির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার বলেন, সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। সেখানে টপটেন জেনারেল হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা খুব দ্রুত নির্দেশনাটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
আরটিভি/টিআর