images

দেশজুড়ে

গ্রামবাসীর উদ্যোগে বদলে গেল পথ, হাজারো মানুষের স্বস্তি

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৫৬ পিএম

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের লাউতা গ্রামে প্রায় তিন হাজার মানুষের বসবাস। লাউতা থেকে গোন্তা গ্রামের মধ্যে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ চলাচলের পথটি এতদিন ছিল জমির আইল। সামান্য বৃষ্টিতেই সেটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যেত। ফলে ওই পথে চলাচল করতে গিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও সাধারণ গ্রামবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। দীর্ঘদিনের সেই ভোগান্তি দূর করতে নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে লাউতা-গোন্তা সড়ক নির্মাণে এগিয়ে এসেছেন গ্রামবাসী।

জানা গেছে, বর্ষাকালে কাদার কারণে লাউতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে বারবার পিছলে পড়ত। এতে তাদের বই-খাতা ও স্কুলব্যাগ ভিজে যেত। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে না পেরে বাড়ি ফিরে আসত। এ অবস্থায় মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নিজের জমির একটি অংশ রাস্তার জন্য ছেড়ে দিয়েছেন গ্রামের বাসিন্দা মো. আজাহার আলী মাস্টার। পাশাপাশি তালম ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব আশরাফুল ইসলাম নিজ অর্থায়নে ২০ জন শ্রমিক দিয়ে রাস্তার মাটি ভরাটের কাজে সহযোগিতা করছেন।

লাউতা গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল আজিজ বলেন, বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তাটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ত। এখন জমির আইলের পাশে মাটি ভরাট করে কাঁচা রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে এটি পাকা করা সম্ভব হবে।

একই গ্রামের বাসিন্দা মোছা. ঝর্ণা খাতুন বলেন, আমরা প্রায় ২০টি পরিবার এই পাড়ায় বসবাস করি। সন্তানদের স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হতো। সামান্য বৃষ্টিতেই বই-খাতা ও ব্যাগ ভিজে যেত। এমনকি কেউ মারা গেলেও কবরস্থানে নিতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হতো। রাস্তাটি নির্মাণ হলে আমাদের সেই কষ্ট অনেকটাই কমে যাবে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

সোনারগাঁয় ফুটপাত দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে ১৫ জনের জেল-জরিমানা

জমিদাতা মো. আজাহার আলী মাস্টার বলেন, এই রাস্তা শুধু আমার জন্য নয়, পুরো এলাকার মানুষের জন্য। আমার জমির কিছু অংশ দিয়ে যদি কোমলমতি শিশুদের স্কুলে যাওয়া সহজ হয়, অসুস্থ মানুষ দ্রুত হাসপাতালে যেতে পারে এবং গ্রামের মানুষের কষ্ট কমে, তাহলে এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু হতে পারে না। আমি চাই, সবাই মিলে এই রাস্তা রক্ষা করবে এবং এলাকার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে।

তালম ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব আশরাফুল ইসলাম বলেন, গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দেখে আমি নিজ উদ্যোগে রাস্তার মাটি ভরাটের ব্যবস্থা করেছি। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে স্কুলে যেতে পারে, সেটিই আমার উদ্দেশ্য। এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; সম্পূর্ণ মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে নেওয়া একটি উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে মানুষের পাশে থাকতে চাই।

লাউতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেলিনা খাতুন বলেন, জমির আইলের এই পথের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে সমস্যায় ভুগছিল। মো. আজাহার আলী মাস্টার নিজের জমি ছেড়ে দিয়েছেন এবং আশরাফুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে মাটি ভরাট করছেন। তাঁদের এই মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আশা করছি, এখন গোন্তা গ্রাম থেকে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ে আসতে পারবে।

আরটিভি/এমএইচজে