images

দেশজুড়ে

সম্পত্তি দাবির জেরে প্রতিবন্ধীর পরিবারকে একঘরে করার অভিযোগ

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ , ০৩:৫০ পিএম

সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার দাবি করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক প্রতিবন্ধীর পরিবার সমাজচ্যুত ও অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বজন ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া মোল্লা বাড়িতে।

ভুক্তভেগী ও তার পরিবার জানায়, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে পাঁচ দিন বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) চিকিৎসার জন্য স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হলে পথরোধ করে হামলা চালানো হয়। এতে প্রতিবন্ধী সুমন মোল্লা (৪৪) গুরুতর আহত হন। 

জানা গেছে, প্রতিবন্ধি সুমন মোল্লা প্রায় ১৫ বছর আগে প্যারালাসিসে আক্রান্ত হয়ে হুইল চেয়ারে চলাচল করেন। এ অবস্থায় তার স্ত্রী নিলা বেগম (লাইলি বেগম) ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আরফান মোল্লাকে নিয়ে তার সংসার। বাড়ির সামনে থাকা একটি দোকানই তাদের আয়ের অন্যতম উৎস।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

মক্কার সড়কে নিভে গেল হানিফের জীবন

বিরোধের বিষয়ে সুমন মোল্লা জানান, সদর উপজেলার সুহিলপুর বাজার সংলগ্ন প্রায় ১৬ শতক জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। জমিটি তার বাবা কিনলেও দলিল তার মায়ের নামে হওয়ায় পরে চার ভাই নিজেদের নামে লিখে নেন। এতে তিনি নিজের ন্যায্য অংশ দাবি করলে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দেওয়া হয় এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতন শুরু হয়। সমাজচ্যুত করার পর এখন নিজের দোকানেও যেতে দেওয়া হয় না। 

সুমন আরও জানান, এলাকার কেউ ওই দোকান থেকে কেনাকাটা করলে বা কোনো শিক্ষার্থী সেখানে গেলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও জুতা দিয়ে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছে। 

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে সুমন মোল্লাকে সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখা হয়েছে। এছাড়া তার দোকানে কেউ যেন কেনাকাটা না করে, সে বিষয়েও এলাকায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত ভাইরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য, এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ অনুষ্ঠিত হলেও সুমন পক্ষ সালিশে উপস্থিত হয়নি। পরে এলাকাবাসী তাদের বিষয়ে সহযোগিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তারা দাবি করেন। 

এ ঘটনায় থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে। তবে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আরটিভি/এমএম