মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ১১:০৯ পিএম
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুরে পদ্মা নদীতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রায়টা-মহিষকুন্ডি বেড়িবাঁধ, ফসলি জমি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ স্থানীয়দের বসতভিটা। ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে বেড়িবাঁধের দূরত্ব মাত্র ৫০ মিটার দূরে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ফয়জুল্লাহপুর এলাকার রায়টা-মহিষকুন্ডি বেড়িবাঁধের পাশে এক কিলোমিটারের বিভিন্ন জায়গায় এ ভাঙন দেখা গেছে।
স্থানীয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও কয়েক দিনের টানা বর্ষণের ফলে এই ভাঙন তীব্রভাবে দেখা দিয়েছে। পাউবোর নদী রক্ষা বেড়িবাঁধের পাশ দিয়ে রাইটা-ফয়জুল্লাহপুরে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকার এক কিলোমিটারের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন লক্ষ্য করা গেছে। এর আগেও এই অঞ্চলে নদী ভাঙনে শতশত একর ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। বর্তমানে নদীর এই অংশে ভাঙন কবলিত স্থান থেকে নদী রক্ষা বাঁধের দূরত্ব মাত্র ৪০-৫০ মিটার।
কিছু জায়গায় আরও কম। বসতবাড়িগুলোও পড়ে গেছে হুমকিতে। ভাঙন কবলিত এলাকাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে গভীর আতঙ্ক আর উদ্বেগ। এরই মধ্যে অনেকে হারিয়েছে বসতভিটা। অনেকে আবার শেষ সম্বলটুকু টিকিয়ে রাখতে নিজ উদ্যোগেই ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। একপ্রকার নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে পদ্মা পাড়ের মানুষ বলে অভিযোগ তাদের।
ভাঙনে ভিটে হারানো ভুক্তভোগী আফতাবুল সরদার বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙনে আমার বাড়ির পেছনের ভিটাটুকু নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বাড়ির সমস্ত মালামাল বের করে নিয়েছি। যেকোনো সময় বাকিটুকুও শেষ হয়ে যাবে।
ভাঙন কবলিত কবিরাজপাড়া এলাকার বাসিন্দা, ফরিদা পারভীন ও ময়না খাতুন কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, স্বামীর রেখে যাওয়া এই ভিটেটুকুই শেষ সম্বল। বাড়ি ভাঙার চিন্তায় সারারাত ঘুমাতে পারি না। এটুকু না থাকলে ছেলে-সন্তান নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কবিরাজ বলেন, নদী রক্ষা বাঁধের পাশে অবস্থিত প্রায় ৫০-৬০টি বাড়ি নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে আফতাবুল, টিক্কা, নাজিম, কালু মজনু, হান্নান ও খোকনের বাড়ির পিছনের আঙিনা নদীতে বিলীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অবস্থা ভয়াবহ হবে।
জুনিয়াদহ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান হাসান বলেন, গত ধরে ফয়জুল্লাহপুর এলাকার নদী রক্ষা বাঁধের পাশে বেশ কিছু জায়গা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে শুনেছি। নদী তীরবর্তী এলাকা রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী রক্ষা বাঁধ যদি কোনো ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়, তবে গোটা কুষ্টিয়া জেলা পানিবন্দি হয়ে যাবে।
ভেড়ামারা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, ফয়জুল্লাপুরে নদী ভাঙনের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে তাদের সাহায্য করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর তাগিদ জানাব।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, আমরা নদী ভাঙনের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। এ অঞ্চলটি ইতোপূর্বেও ভাঙনের শিকার হয়েছিল। আমরা প্রস্তাবনা পাঠিয়ে রেখেছি। সেটা পাশ হলে আমরা দ্রুতই কাজ শুরু করতে পারব।
আরটিভি/ এসকেডি