মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ১১:২২ পিএম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে টিউশনির বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সিঁথি সীমিতা (২৮) নামে এক স্কুলশিক্ষিকাকে ঘরে আটকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। হামলায় তার মাথায় ১০টি কোপ লাগে এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় একটি আঙুল। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রীর মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচর গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার ওই নারীর নাম প্রিয়া বেগম (২৫)। তিনি স্থানীয় এক খাবারের হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার স্ত্রী।
শিক্ষিকাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রিয়া বেগমকে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভৈরব থানার জ্যেষ্ঠ উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং হামলার পেছনে টিউশনির টাকার বাইরে অন্য কোনো কারণ বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা সিঁথি স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রিয়া বেগমের এক সন্তানকে গত তিন মাস ধরে বাসায় গিয়ে পড়াতেন সিঁথি। এর বিনিময়ে প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিছুদিন আগে সিঁথি বকেয়া টিউশনির টাকা চাইলে প্রিয়া বেগম চরম ক্ষুব্ধ হন। ঘটনার দিন সকালে যথারীতি ওই শিক্ষার্থীকে পড়াতে যান সিঁথি। পড়া শেষ করে চলে আসার ঠিক আগমুহূর্তে প্রিয়া বেগম ঘরের দরজা আটকে দিয়ে দা দিয়ে সিঁথিকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন।
দরজা বন্ধ থাকায় শত চেষ্টা করেও সিঁথি ঘর থেকে বের হতে পারেননি। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সিঁথির মাথায় ১০টি কোপের গভীর ক্ষত রয়েছে, যেখানে প্রায় ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে। এ ছাড়া তার হাতের ৭টি আঙুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষিকা সিঁথি সীমিতা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, মাথায় প্রথম কোপটি দেওয়ার পর আমি দৌড়ে দরজা খোলার চেষ্টা করি। অন্যদিন ঘরে একটি ছিটকিনি লাগানো থাকলেও, ঘটনার দিন পরিকল্পিতভাবে দুটি ছিটকিনি লাগানো ছিল। ফলে আমি আর বের হতে পারিনি। কোপানোর সময় প্রিয়া আমার শরীরের স্বর্ণালংকারের দিকে নজর দেয় এবং বলতে থাকে—আমার কাছে এক আনা স্বর্ণ নেই, তুই এত স্বর্ণ পরে আছিস ক্যান? স্বর্ণ দে।
মামলার বাদী শিশু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, এটি মূলত হত্যা করে স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের একটি সুপরিকল্পিত হামলা। প্রিয়া বেগম আগেও এলাকায় এ ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা ঘটিয়েছেন। এখন অপরাধের তীব্রতা হালকা করার জন্য একটি মহল তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে।
আরটিভি/এমএম