বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ , ১০:৪৫ এএম
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালাতে গিয়ে জলাশয়ে ঝাঁপ দিয়ে কচুরিপানার নিচে ১০ ঘণ্টা লুকিয়ে থাকার পর ২ গরু চোরকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে নাটোরের সিংড়া থানার চৌগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন- ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার বেতাকুড়-আতারামপুর এলাকার হাবিবুর রহমান (৪২) এবং জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার মইপুর গোপালপুর এলাকার ফেরদৌস (২৬)।
সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নওগাঁ জেলার রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল জানান, গত ১০ জুলাই ওই থানা এলাকায় গরুচুরির মামলা হয়। ওই মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে নওগাঁর আত্রাই থানার কাশিয়াড়ী এলাকার আসলাম দেওয়ানকে (৪৩) আটক করে র্যাব। এরপর তার দেওয়া তথ্যে বুধবার ভোর ৫টার দিকে সিংড়া চৌগ্রাম এলাকায় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে চেকপোস্ট বসায় রানীনগর থানার পুলিশ। ওই সময় আসলাম দেওয়ানের গ্রুপের আন্তঃজেলা গরুচোর চক্রের ৫-৬ জন সদস্য একটি মিনিট্রাকে পৌঁছায়। কিছুক্ষণ পরই তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চৌগ্রাম-কালিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। ওই সময় চোর চক্রের ওই দুজন রাস্তার পাশের কচুরিপানাপূর্ণ খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে লুকিয়ে যান।
স্থানীয় এক যুবক বলেন, ওরা কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এলাকাবাসী খাল ঘিরে রাখায় শেষ পর্যন্ত বের হয়ে আসতে বাধ্য হয়।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, আটক দুইজনকে প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা জানান, ওই ২ চোরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আটক চোরদের বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় মামলা হবে। আবার রানীনগর থানা পুলিশও তাদের শোন অ্যারেস্ট দেখাবে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ওই চোরদের আদালতে চালান দেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএইচজে