ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেলেও আনন্দ নেই ছাবিদের পরিবারে 

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ , ১০:২১ এএম


ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেলেও আনন্দ নেই ছাবিদের পরিবারে 
ছবি: আরটিভি

আমি বড় হয়ে বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার হব, তুমি হবে ইঞ্জিনিয়ারের মা। নিজের গর্ভধারিণী মাকে এমন স্বপ্নই দেখিয়েছিল মেধাবী শিক্ষার্থী ইবনে ছাবিদ। পরিবারেরও স্বপ্ন ছিল, ছেলে বড় হয়ে বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার হবে, দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। মেধার স্বাক্ষর রেখে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিও পেয়েছে সে। কিন্তু এই আনন্দের খবরেও পরিবারে নেই কোনো হাসির ঝিলিক। কারণ, দুরারোগ্য ক্যানসার বাসা বেঁধেছে ছোট্ট এই শিশুটির শরীরে। বিছানায় শুয়ে এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ছাবিদ। বৃত্তি পাওয়ার খবরে হাসপাতালের বেডে শুয়েই ডুকরে কেঁদে ওঠে সে, অশ্রুসিক্ত হয় পুরো পরিবার।

ছাবিদ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়ার সাহাপুর গ্রামের আশরাফুল আলম রোকনের একমাত্র ছেলে। বর্তমানে সে ঈশ্বরদী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (আরএআরএস) উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এর আগে, চর-সাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় সে।

ছাবিদের প্রাক্তন শিক্ষকরা জানান, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় তার দারুণ মনোযোগ। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মেধাতালিকায় সব সময় প্রথম স্থানটি তারই দখলে ছিল। গত এপ্রিলে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে ছাবিদ। এরপর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে।

আরও পড়ুন

ছাবিদের বাবা আশরাফুল আলম রোকন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের একজন শ্রমিক। তিনি জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ছাবিদকে সুস্থ জীবনে ফেরাতে দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা প্রয়োজন। একমাত্র ছেলের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে ও তাকে বাঁচাতে প্রতিনিয়ত কর্মক্ষেত্রে ও হাসপাতালে ছুটছেন এই দিশেহারা বাবা।

ছাবিদের মা লিজা খাতুন বলেন, আর ১০টা শিশুর মতো ওর এখন বইখাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা। কিন্তু এর বদলে চিকিৎসার কাগজপত্র নিয়ে আমাকে নিয়মিত হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে। একমাত্র ছেলের এই অনিশ্চিত জীবন আমাদের স্তব্ধ করে দিয়েছে। 

এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানান, ছাবিদ শুধু মেধাবীই নয়, অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত প্রকৃতির। পড়াশোনার পাশাপাশি সে নিয়মিত নামাজ পড়ত ও কোরআন তিলাওয়াত করত। তার এমন আকস্মিক অসুস্থতায় হতবাক প্রতিবেশীরাও।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, ছাবিদের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীর ক্যানসারআক্রান্ত হওয়ার খবরটি সত্যিই কষ্টের। সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে ক্যানসার রোগীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তার পরিবার আবেদন করলে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

ছাবিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের মোবাইল নং- আশরাফুল আলম রোকন, ছাবিদের বাবা 01742947948 (বিকাশ)

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission