images

দেশজুড়ে

সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ, অতঃপর...

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬ , ০৭:৩৭ পিএম

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার একটি সড়ক সংস্কারকাজে খোয়ার পরিবর্তে রাবিশ ব্যবহার করে মেকাডম নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখা এবং নিয়ম অনুযায়ী খোয়া ব্যবহারের নির্দেশ দেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন।

ঘটনাটি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মজুপুর মাওলানা রেহান উদ্দিন সড়ক ও চৌধুরী বাড়ি কানেক্টিং সড়কে। প্রায় ৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস মোস্তফা অ্যান্ড সন্স। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সড়কটির সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। কাজটি পরিচালনা করছেন ঠিকাদার ফিরোজ আলম।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেহান উদ্দিন সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করা হলেও চৌধুরী বাড়ি কানেক্টিং সড়কে কোনো ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে না। তাদের দাবি, সড়ক সংস্কারের চেয়ে ড্রেন নির্মাণই বেশি জরুরি। ড্রেন না থাকায় সড়ক নির্মাণ শেষ হলে দুই পাশের বাসিন্দারা জলাবদ্ধতার শিকার হবেন।

তাদের আরও অভিযোগ, সড়ক নির্মাণেও নিয়ম মানা হচ্ছে না। সড়কটির প্রস্থ ১২ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও কোথাও কোথাও তা ৯ থেকে ১০ ফুটে নেমে এসেছে। এ ছাড়া সাব-বেজে খোয়ার পরিমাণ খুবই কম, বালুর পরিমাণ বেশি। সড়কের পাশেই পৌর আইন অমান্য করে অনেকেই বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন। তারা রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য নিরাপত্তা দেয়াল ভাঙছেন না বা প্রয়োজনীয় জমিও ছাড়ছেন না। ড্রেন ও সড়কের জন্য অধিকাংশ মানুষ জমি দিতে রাজি হলেও ঠিকাদারের এক আত্মীয় রাজি নন। তার কারণেই সড়কটি নির্ধারিত প্রস্থে নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া রেহান উদ্দিন সড়কের পাশের ড্রেন নির্মাণেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন
12

স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

একই এলাকার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম, মাওলানা লোকমান, মমিনসহ কয়েকজন নারী-পুরুষ জানান, সড়কের দুই পাশের মাটি তুলে এনে খোয়ার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরো সড়কে খোয়ার চেয়ে রাবিশের পরিমাণ বেশি। সড়কও নির্ধারিত প্রস্থে নির্মাণ করা হচ্ছে না। শুরু থেকেই পৌর কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান তদারকির অভাব ছিল। এ কারণে ঠিকাদার অনিয়ম করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ডিবি রোডের কাজেও একইভাবে অনিয়ম করা হয়েছে। ড্রেন নির্মাণেও নিম্নমানের কাজ হয়েছে। যথাযথ তদারকি থাকলে এসব অনিয়মের সুযোগ থাকত না।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার ফিরোজ আলম বলেন, সাব-বেজের কাজ আগেই করা হয়েছে। সেখানে খোয়ার পরিমাণ কত ছিল, তা আমার জানা নেই। কাজে কোনো অনিয়ম করা হচ্ছে না। মানুষের বাসাবাড়ি বা দেয়াল ভাঙা আমাদের দায়িত্ব নয়। সড়ক প্রশস্ত করার জন্য জনগণ দেয়াল ভেঙে দিলে আমি শ্রমিক দেব।

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সড়কটির সংস্কারকাজ চলছে। কাজ নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। মৌখিকভাবে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও ঠিকাদার তা আমলে নেননি। ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রেখে নিম্নমানের উপকরণ অপসারণ এবং নির্ধারিত মান অনুযায়ী খোয়া ব্যবহার করে পুনরায় কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরটিভি/টিআর