কুড়িগ্রামে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি স্বামী ময়নাল হককে (৩৫) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে র্যাব-১৩ ও র্যাব-১১-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে র্যাব-১৩, রংপুরের মিডিয়া সেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত ময়নাল হক কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পরমালী গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে ময়নাল হকের সঙ্গে মাহমুদা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ময়নাল ও তার পরিবারের সদস্যরা মাহমুদার পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। যৌতুক দিতে না পারায় মাহমুদাকে বিভিন্ন সময় মারধর করা হতো।
গত ১ জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাহমুদার কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। তিনি বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে মাহমুদা চিৎকার শুরু করলে ময়নাল তার গলা টিপে ধরেন। এতে শ্বাসরোধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে মাহমুদার মরদেহের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের কাঠের ধরনার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
এ ঘটনায় মাহমুদার ভাই বাদী হয়ে ২ জুলাই ২০২৬ কুড়িগ্রাম সদর থানায় যৌতুকের দাবিতে হত্যা অভিযোগে একটি মামলা করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তারে র্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, রংপুর এবং র্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জের একটি যৌথ আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার ভূইগড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ময়নাল হককে গ্রেপ্তার করে।
পরে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব-১৩, রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, সমাজ থেকে হত্যা, অপহরণ ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ দমনে র্যাবের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরটিভি/টিআর




