সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ , ০১:০৫ পিএম
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তাকে স্থানীয় একটি ধানের মিলে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের বালিয়াকান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী তামিমসহ ৭জনকে বিবাদী করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে তিনি বলেন, বালিয়াকান্দা এলাকার তারামিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করার পর থেকেই বাড়ির মালিকপক্ষের নাতি তামিমসহ (১৮) কয়েকজন তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, কুপ্রস্তাব ও হয়রানি করে আসছিলেন।
একপর্যায়ে অভিযুক্ত তামিম বিভিন্ন উপায়ে তার মোবাইল নম্বর ও ফেসবুক আইডি সংগ্রহ করে একাধিকবার কুপ্রস্তাব দেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বিষয়টি বাড়ির এক সদস্যকে জানালেও প্রতিকার না পেয়ে উল্টো তিনি মারধরের শিকার হন।
ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, কয়েকজন মিলে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। গত ১৭ জুলাই গভীর রাতে তার কক্ষের বাইরে উঁকিঝুঁকি দেওয়ার প্রতিবাদ করলে তাকে চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করা হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯ জুলাই দুপুরে অভিযুক্তদের একজন প্রকাশ্যে তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাকে ভাড়া বাসায় প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মালামাল পুড়িয়ে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। একই সময়ে অপর এক অভিযুক্ত ফোন করেও এক লাখ টাকা দাবি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
একপর্যায়ে ওইদিনই স্থানীয় বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার ধানের মিলে তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে জীবন বাঁচাতে ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
অভিযুক্ত মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি সাবেক আহ্বায়ক সদস্য দেলোয়ার হোসেন ভুইয়া বলেন, ঘটনার সময় আমি মুন্সীগঞ্জে ছিলাম। একটা খারাপ মেয়েকে মারছে, তাতে কী হয়েছে? বিষয়টি এমপি সাহেবকে জানিয়েছি।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/আইএম