তেজগাঁও থেকে মুন্সীগঞ্জে গিয়ে ডাকাতি, অতঃপর...

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ , ১১:৫০ এএম


তেজগাঁও থেকে মুন্সীগঞ্জে গিয়ে ডাকাতি, অতঃপর...
গ্রেপ্তার ডাকাতদের মধ্যে কয়েকজন। ছবি: আরটিভি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে এবং লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। 

রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গত ১১ জুলাই রাত আনুমানিক ২টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে গজারিয়া থানা পুলিশ জানতে পারে, উপজেলার বালুবাকান্দি এলাকায় অবস্থিত ‘দি জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামক একটি কনস্ট্রাকশন সাইটে সশস্ত্র ডাকাতদল প্রবেশ করেছে। পরে ডাকাতরা সেখানে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ও চোখ বেঁধে একটি কন্টেইনার কক্ষে আটকে রাখে। এরপর সাইটে থাকা বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী ট্রাকে তুলে নিয়ে যায় তারা। লুণ্ঠিত মালামালের মূল্য ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা।

ঘটনার পরপরই মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন দুটি ট্রাক শনাক্ত করা হয়। পরে ট্রাকের মালিক ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করা হলে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযানে আরও আসামিদের ধরা হয়। এ ঘটনায় ১৪ জুলাই গজারিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

আরও পড়ুন

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অন্তত দুটি গ্রুপের সমন্বয়ে এ ডাকাতি সংঘটিত হয়। শাওন, সজল ও রিয়াজুলসহ কয়েকজন পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত। তারা ভাঙারি ব্যবসার আড়ালে এ অপরাধ সংগঠিত করে এবং স্থানীয় শ্রমিকদের সহযোগিতা নেয়। ঘটনার দিন রাতেই ঢাকার তেজগাঁও এলাকা থেকে একটি দল গজারিয়ায় এসে অবস্থান নেয়। পরে একটি অগ্রবর্তী দল সাইটে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে এবং বাইরে থাকা সহযোগীদের সহায়তায় ট্রাকে করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩-২৪ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মাইন উদ্দিন, ছোটন, রিয়াজুল ইসলাম, আবুল খায়ের, শাহ আলম, রনি শিকদার, মেহেদী হাসান, মনোরঞ্জন দাস, আল আমিন সানা, অলোকেশ মন্ডল, সারাফত উদ্দিন সুমন, অলিউর রহমান, জামাল, মৃদুল আহম্মেদ তুষার, সজল হোসেন, আরিফ, মিরাজ, আলী ও রফিক।

উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ৪টি ব্যাটারি, ১০টি ফ্যান, মোটর, ডায়নামো, ওয়েল্ডিং মেশিন, হাইড্রোলিক যন্ত্রপাতি, ডিজেল ইঞ্জিন, এসিসহ প্রায় সাড়ে ৫ টন লোহার বিভিন্ন সামগ্রী।

পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission