images

দেশজুড়ে

আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর সেই অসহায় পরিবারের পাশে ওসি

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ১১:২২ পিএম

চরম দারিদ্র্য, অভাব আর অনিশ্চিত জীবনের চাপ। সংসারে তিন সন্তান, স্বামী মাদকাসক্ত হয়ে বাড়ি ছেড়ে ঢাকায়। ঘরে খাবার নেই, সন্তানদের মুখে একমুঠো খাবার তুলে দেওয়াই সামর্থ্য ছিল না। এমন অসহায় পরিস্থিতিতে দুই কন্যা সন্তানকে রাস্তার পাশে রেখে চলে গিয়েছিলেন মা শাহনাজ বেগম।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম নেয়।

তবে সেই ঘটনার পর মানবিক আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দিনাজপুরের হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে অসহায় পরিবারটির হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন তিনি।

ওসি জাকির হোসেন বলেন, অনুদানের পরিমাণ হয়তো খুব বেশি নয়। কিন্তু এই মুহূর্তে পরিবারটির প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করেই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন, সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে এমন অসহায় পরিবারগুলো নতুন করে বাঁচার আশা পাবে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এই পরিবারটার সত্যিই সহযোগিতা প্রয়োজন, শুধু একদিনের সাহায্য নয়, তাদের নিয়মিত সহায়তা করা দরকার। সমাজের বিত্তবান মানুষ এবং সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলেই পরিবারটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

শিশু দুটির মা শাহনাজ বেগম কান্না জনিত কণ্ঠে বলেন, একটা মা দশ মাস দশ দিন সন্তানকে গর্ভে ধারণ করে। কোনো মা ইচ্ছা করে সন্তানকে ফেলে যায় না। অভাব অনটনের কারণে আমি সেই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সন্তানদের কষ্ট আর ক্ষুধা সহ্য করতে পারিনি। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আমি সবার কাছে সহযোগিতা চাই। যেন আমার সন্তানদের মানুষ করতে পারি।

শিশু দুটির নানি আরজিনা বেগম বলেন, মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলাম সুখে থাকবে ভেবে। পরে দেখি জামাই মাদকাসক্ত। প্রায় টাকার জন্য মেয়েকে মারধর করতো। আমি নিজেও গরিব মানুষ। নিজের দুই বেলা খাওয়ার জোটে না, সেখানে মেয়ে আর তিন নাতি-নাতনিকে কীভাবে খাওয়াবো? খুব কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে।

উল্লেখ্য, ১৯ জুলাই সকালে দিনাজপুরের হাকিমপুর থানা মোড়ে দুই কন্যা শিশুকে রেখে চলে যান তাদের মা।

দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও মা ফিরে না আসায় কান্নাকাটি শুরু করলে স্থানীয়দের খবরে পুলিশ শিশু দুটিকে উদ্ধার করে। পরে জয়পুরহাটে পাঁচবিবি উপজেলার মাগুরা বটতলী গ্রামে তাদের পরিবারের সন্ধান পেয়ে জিমায় শিশুদের হাতে তুলে দেয় হাকিমপুর থানা পুলিশ।

আরও পড়ুন
ewwe

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মসজিদের প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া

এই ঘটনার পর আবারও সেই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন হাকিমপুর থানার ওসি। স্থানীয়দের আশা, প্রশাসনের এই উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিদ্যমান ও মানবিক মানুষ যদি এগিয়ে যান, তাহলে অভাবের কাছে আর কোনো মাকে সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে না।

আরটিভি / এসএস