জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মসজিদের প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ১০:৫৭ পিএম


জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মসজিদের প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মতলব উত্তর উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি বাইতুল আমান জামে মসজিদের প্রধান প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি মসজিদের প্রধান প্রবেশপথ বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি দক্ষিণপাড়া বাইতুল আমান জামে মসজিদে এ ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় একই গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৮২ সালে তিন ভাই শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম ও মনির হোসেনের সম্মতিক্রমে মসজিদের নামে তিন শতাংশ জমি দান করা হয়। পরে রেকর্ড-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য বড় ভাই শফিকুল ইসলাম ও ছোট ভাই মনির হোসেন আরও এক শতাংশ জমি মসজিদের নামে দান করেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির ওপরই মসজিদ পরিচালিত হয়ে আসছে।

তাদের অভিযোগ, গত সাত থেকে আট বছর ধরে রফিকুল ইসলাম মসজিদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দিয়ে আসছেন। এমনকি মসজিদের গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। সর্বশেষ তিনি মসজিদের প্রধান প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দিয়ে মুসল্লিদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।

নামাজ আদায় করতে যাওয়া কয়েকজন মুসল্লি বলেন, প্রতিদিনের মতো মসজিদে এসে হঠাৎ প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দেখতে পান তারা। এতে মসজিদে প্রবেশ ও বের হতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার শান্তিপূর্ণ ও দ্রুত সমাধান চান।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাহানুর আলম বলেন, প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ায় মুসল্লিদের নিয়মিত মসজিদে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইদ্রিস আলী প্রধান বলেন, নতুন কমিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে। তিন ভাইয়ের দান করা জমিতেই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পাকা মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, মসজিদের কিছু অংশ তার জমির মধ্যে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য তিন ভাইকে একসঙ্গে বসার আহ্বান জানানো হলেও তা হয়নি। কোনো আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে মসজিদের প্রবেশপথে বেড়া দেওয়ায় এলাকাবাসী বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ।

অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কোনো কিছু গোপন করিনি। যে জায়গায় বেড়া দিয়েছি, সেটা আমার নিজের জায়গা। আমাকে বাধ্য করা হয়েছে বলেই এই কাজ করেছি। বিষয়টি যদি আইনগত বা সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি হয়, আমি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে প্রস্তুত।’

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি দেখে জানতে পেরেছেন। তবে সেটি মতলব উত্তরের ঘটনা বলে নিশ্চিত ছিলেন না। যদি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ বা কোনো ব্যক্তির চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, যেকোনো পক্ষ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নেব। ব্যক্তিগত বিরোধ থাকলেও কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ এভাবে বন্ধ করে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission