বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ , ০৩:১৯ পিএম
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে সাতজনকে ঠেলে পাঠানো (পুশ ইন) হয়েছে— এমন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তাদের কারও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তিকে জীবননগর উপজেলার নারায়ণপুর এলাকায় দেখা গেলেও পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবির ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।
সকাল ছয়টার দিকে ওই দুজনের বক্তব্য ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড করেন একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক। পরে সেটি ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে ওই দুজনের ঠিকানা জানতে চাইলে খুলনার ডুমুরিয়ার একটি গ্রামে বলে জানান। তাদের ভাষ্যমতে, একই সময়ে আরও পাঁচজনকে ঠেলে পাঠানো হয়েছিল। তবে তাদের সর্বশেষ অবস্থান কেউ জানাতে পারেননি।
ভিডিওতে দেখা যায়, জিনসের প্যান্ট, সাদা ছাপা শার্ট ও কেডস পরা আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি এবং লাল পাঞ্জাবি, কালো প্যান্ট ও কেডস পরা আরেক ব্যক্তি মাথায় নীল রঙের ব্যাগ নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। পরে তাঁদের একটি ভ্যানে উঠে চলে যেতে দেখা যায়।
ওই দুই ব্যক্তির ভাষ্যমতে, পাটোয়ারী সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ৫৮ বিজিবি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভারতীয় অংশে পাটোয়ারী নামে কোনো গ্রাম নেই। তা ছাড়া ওই দুজনকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ওই দুজন নিজেদের আপন ভাই বলে দাবি করেন। তাদের একজন আমিনুর রহমান, অন্যজন খলিলুর রহমান। তাদের বাবার নাম মোহাম্মদ আলী সানা।
আমিনুর রহমানের ভাষ্যমতে, ভোর চারটা থেকে সাড়ে চারটার দিকে তাদের দুই ভাইসহ মোট সাতজনকে ভারতের পাটোয়ারী সীমান্তপথ দিয়ে জীবননগর সীমান্তে ঠেলে পাঠায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বাকি পাঁচজন কোথায় আছেন বা কোথায় গেছেন, তা তারা বলতে পারেননি। সীমান্ত পার হওয়ার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে তাদের দেখা হয়নি।
খলিলুর রহমান জানান, দুই-আড়াই বছর আগে তারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়েছিলেন। এখন গ্রামের বাড়িতে চলে যাবেন।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখেছেন বলে গণমাধ্যমকে জানান মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম। তিনি বলেন, ওই দুই ব্যক্তির ভাষ্যমতে পাটোয়ারী সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ৫৮ বিজিবি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভারতীয় অংশে পাটোয়ারী নামে কোনো গ্রাম নেই। তা ছাড়া ওই দুজনকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান জানান, এ বিষয়ে কোনো তার তথ্য জানা নেই। তবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
আরটিভি/এমএইচজে