শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ , ০৫:১৯ পিএম
নেত্রকোণায় সোমেশ্বরী নদীর পাড়ে দীর্ঘদিনের সীমান্ত জটিলতা শেষে শূন্য রেখায় তৈরি হচ্ছে নতুন সড়ক। নতুন ব্রিজ ও সড়ক নির্মাণ হলেই অবহেলিত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসহ বিজিবি সদস্যদেরও যাতায়াত সহজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। নির্মাণ কাজ হলে শুধু যাতায়াত নয় শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যতে উন্নতি আসবে মনে করছেন পাহাড়ি বাসিন্দারা। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে জটিলতা কাটিয়ে নদী শাসনের কাজ পুরোপুরি শেষের দিকে।
২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল ভবানীপুর সীমান্তের শূন্য রেখায় কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করার চেষ্টা করে ভারতীয় বিএসএফ। পরে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় পিছু হটে তারা। সীমান্তের এই শূন্য রেখা কয়েক হাজার বাসিন্দা চলাচলের একমাত্র পথ।
অবশেষে শূন্য রেখার ওপর দেশের মাটিতেই নির্মিত হচ্ছে রাস্তা। সোমেশ্বরী নদীর পাড় বাঁধাই করে সড়ক নির্মাণের কাজ অনেকটাই এগিয়ে। এর ফলে দুর্গাপুরের ভবানীপুর গ্রামবাসীর দীর্ঘ ৫৫ বছরের দুঃখ নিরসন হবে।
উজানের পাহাড়ি ঢলে দিনে দিনে ছোট হয়েছে গ্রামটি। এদিকে পাহাড়ি ঢল ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনে নদীর ভাঙ্গনের ফলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর চলাচলের সড়ক না থাকায় শূন্যরেখা ছিল একমাত্র ভরসা।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘বিজয়পুর আইসা বাদে নৌকা দিয়ে আসতে হয়। রাস্তাঘাট খুব খারাপ অবস্থা। কোনো বাচ্চাকাচ্চা স্কুলে পাঠাইতে পারতাছি না। রাস্তাঘাট সমস্যা। নতুন যে ব্রিজ আছিলো একটা, সেটাও ভাইঙে গেছে।’
গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ব্রিজটি পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়ায় ফলে যাতায়াত থেকে শুরু করে সবকিছুতেই ভোগান্তির শিকার পাহাড়ি জনগোষ্ঠী। সীমান্তে থাকা বিজিবি সদস্যদেরও দুর্ভোগের শেষ নেই। অবশেষে বিজিবির মধ্যস্থতায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে নদীর ভেতরেই তৈরি হচ্ছে রাস্তা। এরইমধ্যে সড়কে নির্মাণে সড়ক বিভাগ এবং এলজিইডি কাছেও প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
ঠিকাদার বলেন, ‘এখন নদী শাসনের কাজ শেষ পর্যায়ে। পরবর্তীতে এখানে একটা ব্রিজ হবে।’
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘নতুন রাস্তা আজ যদি হয়, তাতে আমাদের সুবিধাই হবে, ভালো হবে। তাড়াতাড়ি যেন সম্ভব ওই রাস্তাটা হইলে আমাদের সুবিধা হইবো।’
শুন্যরেখার ৫৫ মিটার দূর দিয়ে ১ হাজার ৪৪০ মিটার সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে বিজিবি। নির্মাণ সম্পন্ন হলে গ্রামবাসীর সুফল মিলবে বলে জানান বিজিবির অধিনায়ক। এদিকে বিলীন হওয়া সড়ক চ্যালেঞ্জ নিয়েই বিজিবির সহায়তায় প্রায় শেষের দিকে বলে জানান-পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী।
নেত্রকোণা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী পিএসসি বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আমরা ২০২৪ সাল থেকে এখানে রোড করার কার্যক্রম চলমান শুরু হয়। এখন পর্যন্ত আলহামদুলিল্লাহ, ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এই রাস্তাটার কাজ শেষ হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।’
নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাজটুকু শেষ হলে সেখানে এলজিইডি একটা রাস্তা নির্মাণ করবে। আমরা গ্রাউন্ডটা ডেভেলপ করে দিয়েছি, এটা ভবানীপুর গ্রামে যাওয়ার যে রাস্তাটা, এই রাস্তাটা এখন পায়ে হেঁটে যেতে পারবে লোকজন।’
দুর্গাপুর উপজেলার ভবানীপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ১৩ কোটি ২৮ লাখ ও ৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি প্যাকেজের আওতায় ৫৫ মিটার মাটি ভরাটসহ ৩৬০ মিটার নদীর পাড় বাঁধাই কাজ চলমান রয়েছে।
আরটিভি/ এসকেডি