রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬ , ০৮:২০ পিএম
পটুয়াখালীর গলাচিপা সদর ভিআইপি রোড এলাকার ইঞ্জিনিয়ার কাওসার নাইম (শুভ)-এর ছাদবাগান থেকে একটি কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করে উপকূলীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রোববার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গলাচিপা রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রির তথ্যের ভিত্তিতে অ্যানিম্যাল লাভার্স অব পটুয়াখালীর সভাপতি সোহেল হোসেন রাসেল সাপটি নিরাপদে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর সাপটি উপকূলীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বন বিভাগ জানিয়েছে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে সাপটিকে উপযুক্ত সময়ে প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।
বন বিভাগ বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে হত্যা বা আটকে না রেখে দ্রুত বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে সাপটি নিরাপদে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করায় ‘এনিমেল লাভার্স অব কলাপাড়ার’ সোহেল হোসেন রাসেলের প্রশংসা করেন বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা।
তিনি জানান, দেশে পাওয়া দৃষ্টিনন্দন সাপগুলোর মধ্যে কাল নাগিনী (Ornate Flying Snake) অন্যতম। অঞ্চলভেদে সাপটিকে উড়াল সাপ, সুন্দরী সাপ, কাল সাপ ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়। ইংরেজি নামের সঙ্গেও ‘ফ্লাইং স্নেক’ রয়েছে, তবে সাপটি মোটেও উড়তে পারে না। এটি গাছের উঁচু ডাল থেকে নিচু ডালে লাফিয়ে নামে। কাল নাগিনী দিবাচর ও শান্ত স্বভাবের সাপ। খুব বেশি বিরক্ত না হলে কামড়ায়ও না। এরা গিরগিটি, বাদুড়, ইঁদুর, ছোট পাখির ডিম ও কীটপতঙ্গ খায়। এরা সাধারণত পোকামাকড়, টিকটিকি, গিরগিটি, ব্যাঙ ও ছোট পাখি ইত্যাদি খায়। সাধারণত মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত এদের প্রজনন মৌসুম। সাপটি একবারে ৬-১২ টি ডিম পাড়ে যা থেকে দুইমাস পর বাচ্চা ফোটে।
তিনি বলেন, কাল নাগিনী নির্বিষ সাপ। অথচ নাটক-সিনেমায় কাল নাগিনীকে ভয়ংকর বিষধর সাপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে মানুষ সাপটি দেখামাত্রই মেরে ফেলে। এতে সুন্দর প্রাণীটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।
আরটিভি/টিআর