নওগাঁয় পোলাও চালের দাম ছাড়িয়েছে ২০০ টাকা

নওগাঁ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬ , ০৮:০৭ পিএম


নওগাঁয় পোলাও চালের দাম ছাড়িয়েছে ২০০ টাকা
চিনিগুড়া চাল। ছবি: আরটিভি

নওগাঁর চালের বাজারে আগুন। এক মাসের ব্যবধানে সুগন্ধি চিনিগুড়া চালের দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা পড়েছেন তীব্র বিপাকে। চালের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার পেছনে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্য এবং অবৈধ মজুতদারিকে দায়ী করছেন খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ পৌর খুচরা ও পাইকারি চাল বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানেই আতপ চিনিগুড়া চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। আর মাসের হিসাবে এই বৃদ্ধি কেজিপ্রতি প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। বর্তমানে বাজারে খোলা চিনিগুড়া চাল মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। আর বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত চালের দাম পৌঁছেছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়।

দাম বৃদ্ধিতে ক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে। পৌর চাল বাজারে চিনিগুড়া চাল কিনতে আসা ক্রেতারা জানান, চিনিগুড়া চাল তারা শিশুদের জন্য বা বিশেষ দিনে বিরিয়ানি-পোলাও রান্নার কাজে ব্যবহার করেন। দাম বৃদ্ধির কারণে আগে যেখানে ২-৩ কেজি চাল কিনতেন, সেখানে এখন ১ কেজি চাল কিনে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। গত মাসেও তারা যে চাল ১৪৫-১৫০ টাকা কেজি দরে কিনেছেন, আজকের বাজারে সেই চাল ১৮০-২০০ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে ৪০-৪৫ টাকা দাম বৃদ্ধি তাদের কাছে সুখকর নয়। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে চিনিগুড়া চাল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। এর দ্রুত সমাধান চেয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

এদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, শুধু সুগন্ধি চালই নয়, বস্তাপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে কাটারি ও জিরাশাইলের মতো চিকন চালের দামও। বর্তমানে এসব চাল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮২ টাকায়। মোটা স্বর্ণা-৫ চালের দাম কিছুটা স্থির থাকলেও চিনিগুড়া ও চিকন চালের বাজারের এমন ঊর্ধ্বগতিতে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।

আরও পড়ুন

ব্যবসায়ীদের দাবি, ৫০ কেজির চিনিগুড়া চালের বস্তায় দাম বেড়েছে প্রায় ২ হাজার টাকা। করপোরেট কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত দামে প্যাকেটজাত চাল বাজারজাত করায় খোলা বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে করপোরেট ব্যবসায়ীরা প্যাকেটজাত চাল বেশি দামে বিক্রি করায় খোলা বাজারে এর বড় প্রভাব পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা।

এদিকে ফারিহা ও শেখ রাইস মিলের মালিক শেখ ফরিদ উদ্দিন জানান, বর্তমানে চালের ব্যবসা চলে গেছে করপোরেট কোম্পানিগুলোর হাতে। এর ফলে হাসকিং ও অটো মিল মালিকরা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে প্যাকেটজাত চাল বাজারদরের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি করার অসৎ উদ্দেশ্যেই মূলত এমনটি করা হচ্ছে। নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা পরিচালনা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের টিকিয়ে রাখতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অসৎ ব্যবসায়ীদের অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে সরকারি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

সুগন্ধি চালের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। ভুক্তভোগীদের মতে, বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে চালের বাজারে স্বস্তি ফেরানো সম্ভব নয়।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission