images

দেশজুড়ে

কার্ড থাকা সত্ত্বেও মিলছে না সরকারি চাল, শতাধিক জেলের ক্ষোভ

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ , ০৫:০০ পিএম

ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নে সরকারি নিবন্ধিত জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও শতাধিক জেলে ভিজিএফের চাল না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সরকার জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল বরাদ্দ দিলেও প্রকৃত অনেক কার্ডধারী সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী জেলেরা।

জেলেদের অভিযোগ, গভীর সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞাকালে জীবিকা বন্ধ থাকায় সরকার প্রতিজন জেলের জন্য ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়। কিন্তু ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের অনেক প্রকৃত জেলে সেই চাল পাননি। সরকারি নিবন্ধিত জেলে কার্ড ও মাস্টাররোলে নাম থাকা সত্ত্বেও তাদের চাল দেওয়া হয়নি। বরং ইউনিয়ন পরিষদে গেলে নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকার ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে ৫৭ দিনের খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ দিয়েছে। ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নে সরকারি নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৫৫ জন হলেও চাল বরাদ্দ এসেছে মাত্র ১ হাজার জেলের জন্য। যার পরিমাণ ৭৭ দশমিক ৩৩ মেট্রিক টন।

জেলে মো. বাবুল বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে আমি কোনো সরকারি চাল পাইনি। আমার নামে বৈধ জেলে কার্ড রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে গেলে বলা হয়, এই কার্ডের চাল আগেই বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু আমার চাল কে নিয়েছে, সেটির জবাব কেউ দিতে পারেনি।

জেলে আলী আহমদ বলেন, আগে নিয়মিত জেলে কার্ডের চাল পেতাম। এখন চাল এলেও আমাদের দেওয়া হয় না। খোঁজ নিতে গেলে বলা হয়, আমাদের নামে কোনো বরাদ্দ নেই। তাহলে আমরা কেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

কালীগঞ্জে শহর যেন এক শ্বাসরুদ্ধকর মৃত্যুফাঁদ!

একই অভিযোগ করেন জহুরুল হক ও রতন মাঝি। তারা বলেন, সরকারের সব নিষেধাজ্ঞা মেনে আমরা নদী ও সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রাখি। অথচ জেলে কার্ড ও তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ভিজিএফের চাল দেওয়া হচ্ছে না। চাল চাইতে গেলে নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে চাল বিতরণের সুবিধাভোগীদের তালিকা (বেনিফিশিয়ারি লিস্ট) ও মাস্টাররোল দেখতে চাইলে ফরাজগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ এবং লালমোহন উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর তা দেখাতে পারেনি।

অভিযোগের বিষয়ে ফরাজগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা কামাল বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই চাল বিতরণ করছি। তবে নিবন্ধিত জেলেদের তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম এসেছে। তাই সবাইকে চাল দেওয়া সম্ভব হয়নি।

লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আখন্দ বলেন, কিছু অনিয়ম হয়েছে। তবে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করার পর তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরটিভি/এমএইচজে