images

দেশজুড়ে

তাঁবু টানিয়ে পাঠদান চলে খুলনার এই সরকারি বিদ্যালয়ে

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ , ০৪:২৩ পিএম

বিদ্যালয়ের মাঠে টানানো একটি তাঁবু। তার নিচে সারি সারি বেঞ্চ। গাদাগাদি করে বসে আছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সামনে দাঁড়িয়ে পাঠ দিচ্ছেন শিক্ষক। আকাশে মেঘ জমলেই শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে ভর করে শঙ্কা। কখন যে বৃষ্টি নামে, কখন ভিজে যায় বই-খাতা, সেই দুশ্চিন্তায় থাকে তারা। 

এভাবেই চলছে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ২৪ নম্বর মটবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ৩৭ শিক্ষার্থীদের পাঠদান। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকায় নতুন ভবনের খোলা ছাদের নিচে তাঁবু টানিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া, কোনো কিছুই যেন থামাতে পারছে না শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম। তবে এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মটবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩০০। বিপরীতে বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র পাঁচটি। ফলে সব শ্রেণির পাঠদান স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প হিসেবে তাঁবু টানিয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিদা হোসেন নাবিলা বলে, বৃষ্টি শুরু হলে তাঁবুর ভেতরে পানি ঢুকে যায়। তখন বই-খাতা ভিজে যায়। অনেক সময় ক্লাসও বন্ধ রাখতে হয়। বৃষ্টি হলে স্কুলে আসতেও ভয় লাগে।

শুধু আবিদা নয়, একই কথা জানায় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের ভাষ্য, রোদে তাঁবুর নিচে প্রচণ্ড গরম লাগে। আবার বৃষ্টি হলে পানি ঢুকে পড়ে। ফলে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুষমা রানী মণ্ডল বলেন, বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ আছে মাত্র পাঁচটি। এক শিফটে সব শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। এ কারণে বাধ্য হয়ে নতুন ভবনের খোলা ছাদের নিচে তাঁবু টানিয়ে অতিরিক্ত শ্রেণির পাঠদান করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, তৃতীয় শ্রেণির ৩৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত নতুন শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বৃষ্টি হলে তাঁবুর নিচে পানি ঢুকে শিশুদের বই-খাতা ভিজে যায়। ভেজা পরিবেশে বসে থাকায় অনেক সময় তারা অসুস্থও হয়ে পড়ে। বর্ষার দিনে তাই সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে।

তাদের দাবি, দ্রুত বিদ্যালয়ে নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করতে হবে। প্রয়োজনে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সম্প্রসারণ করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের তাঁবু টানিয়ে পাঠদান কোনোভাবেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি হতে পারে না। প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

লংগদুতে সেনা জোনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, বিষয়টি দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত একটি শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষ শুধু পাঠদানের জায়গা নয়, তাদের মানসিক বিকাশ ও নিরাপদ বেড়ে ওঠারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ শ্রেণিকক্ষের অভাবে তাঁবুর নিচে পাঠদান করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বৃষ্টি এলেই যেখানে বই-খাতা বাঁচানো দায়, সেখানে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা কতটা সম্ভব, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

আরটিভি/এমএইচজে