শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬ , ০৯:৩৮ পিএম
রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ ধামরাই ও মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার সংযোগস্থলে ধলেশ্বরী শাখা নদীর উপর স্থায়ী সেতুর অভাবে চরম যোগাযোগ সংকটে পড়েছেন ৩০টি গ্রামের লক্ষাধিক বাসিন্দা। যুগের পর যুগ ধরে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জনপদের একমাত্র ভরসা একটি জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। কোমলমতি শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে মুমূর্ষু রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি— সবকিছুই এখন থমকে আছে এই ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারে।
ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। একপারে ঢাকা জেলার ধামরাই ও সাভার উপজেলার মূল ভূখণ্ড, আর ওপারে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা। মাঝখানে ধলেশ্বরীর শাখা নদী বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে দুই পারের প্রায় ৩০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষকে। প্রতিদিন কয়েক হাজার কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে এই জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়েই পারাপার হতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে এই নড়বড়ে অবকাঠামোর ওপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হালকা যানবাহন, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রসারে গড়ে উঠেছে ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫টি কিন্ডারগার্টেন ও ৩টি মাদ্রাসা। কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে ফোর্ডনগর উত্তর পাড়াসহ সংলগ্ন এলাকার শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের প্রতিদিন চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে নদী পার হতে হয়। এছাড়া সাভারের বিভিন্ন উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত চার শতাধিক শিক্ষার্থীর দৈনিক যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো।
যোগাযোগের এই বিপর্যয় সবচেয়ে বড় আঘাত হেনেছে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে। নদীর ওপারের ১৩টি গ্রামে কোনো হাসপাতাল বা মানসম্মত চিকিৎসা কেন্দ্র না থাকায়, জরুরি সেবার জন্য সাভারের হাসপাতালগুলোই বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু নৌপথ বা সাঁকোর সীমাবদ্ধতার কারণে মুমূর্ষু রোগী কিংবা প্রসূতি মায়েদের সময়মতো হাসপাতালে স্থানান্তর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজ হোসেন বলেন, কাগজে-কলমে প্রক্রিয়াকরণের আশ্বাস পেয়েছি কয়েকবার। কবে শেষ হবে এই অন্তহীন অপেক্ষা? রাজধানী ঢাকার এত সন্নিকটে থেকেও এই মধ্যযুগীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণই এখন আমাদের প্রধান দাবি।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, জনসাধারণের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও স্থায়ী সেতুর দাবির বিষয়টি ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। আশা করি খুব শীঘ্রই এই সেতু নির্মাণের বরাদ্দ পাওয়া যাবে।
আরটিভি/এমএইচজে