সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এক আব্দুর সবুর প্রামাণিক নামে এক প্রভাবশালীর ব্যক্তির বাধায় এডিপির অর্থায়নে নির্মাণ হতে যাওয়া জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তি থেকে মুক্তি অধরা রয়েই গেল গ্রামবাসীর।
উপজেলার তালম ইউনিয়নের তালম পদ্মপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি কাজ বন্ধ করা প্রভাবশালী মো. আব্দুর সবুর প্রমাণিক তালম পদ্মপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
এ দিকে জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি নির্মাণের পাশাপাশি কাজ বন্ধ করে দেওয়া ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গ্রামবাসীর গণস্বাক্ষরিত একটি আবেদন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তালম ইউনিয়নের তালম পদ্মাপাড়া গ্রামে একটি কাচা রাস্তা রয়েছে। যে রাস্তায় ওই গ্রামের প্রায় ২৫টি পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ বছর ধরে চলাচল করে আসছেন। তবে রাস্তাটি কাচা হওয়ায় কৃষকদের ফসলদি আনা নেওয়া, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়াসহ চলাচলের ওই রাস্তাটির বেহলা অবস্থা বিরাজ করছিল। তারপর গ্রামবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে তালম ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আব্দুল হামিদ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে মো. আফছার হাজীর বাড়ি থেকে মো. আইয়ুব আলীর বাড়ি পর্যন্ত এডিপির অর্থায়নে ১৫৫ ফুট রাস্তায় ইট বিছানোর জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পায়। পাশাপাশি ঠিকাদার সেখানে কাজ করার জন্য নির্মাণ উপকরণ ইট, বালিসহ নির্মাণ সামগ্রী নিয়েও যান। কিন্তু নির্মাণসামগ্রী দেখেই ওই গ্রামের আব্দুর সবুর প্রামাণিক রাস্তার জায়গাটি নিজের দাবি করেন। একই সঙ্গে রাস্তা নির্মাণের কাজটি জোরপূর্বক বন্ধ করে দেন। আর ওই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিলে গ্রামবাসীদের পক্ষে আব্দুর সবুর প্রামণিককে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি জায়গাটি এডিপির বরাদ্দকৃত অর্থে ইট বিছানো কাজ করতে গেলে তাদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এরপর কার্যত ওই রাস্তাটির নির্মাণ কাজ বন্ধ আছে।
এদিকে ওই গ্রামের ভুক্তভোগী আব্দুল সালাম, আব্দুল মান্নান, মো. আছাদুজ্জামানসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, আমাদের গ্রামে ২৫টি পরিবার বসবাস করি। একমাত্র রাস্তায় হওয়ায় কৃষকেরা ফসলাদি আনা নেওয়া, স্কুলের শিক্ষার্থীসহ চিকিৎসার জন্য রোগীদের আনা নেওয়া করার যাবতীয় কাজের জন্য রাস্তাটি ইট বিছানো খুব জরুরি ছিল। কিন্তু প্রভাবশালী আব্দুর সবুর প্রামাণিকের বাধায় তা সম্ভব হচ্ছে না। যা দুঃখজনক।
আব্দুর সবুর প্রামাণিক বলেন, জায়গাটি আমার ব্যক্তিমালিকানাধীন। তারপরও চলাচলের জন্য রাস্তা দিয়েছি। কিন্তু সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থে আমার ব্যক্তিগত জায়গায় কাজ করতে দেব না।
তালম ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মো. নাজির উদ্দিন বলেন, গ্রামবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে আমি ইউনিয়ন পরিষদে রাস্তাটির ইট বিছানোর কাজ পাশ করেছিলাম। অথচ এক ব্যক্তির বাধায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরটিভি/এমএইচজে




