রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬ , ১০:৪৪ পিএম
পটুয়াখালীর গলাচিপায় সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনে অবৈধভাবে খালে বাঁধ দিয়ে চলছে মাছ শিকার। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ম্যানগ্রোভ বন ও সেখানকার জীববৈচিত্র্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ‘ম্যানেজ’ করে চলছে অবৈধভাবে মাছ শিকার। তারা বলছেন, সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালগুলোর যেখানে-সেখানে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। তবে মাছ শিকারের কথা স্বীকার করলেও এখন পর্যন্ত কোনো খালে মাছ শিকারের বৈধ অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলায় বন বিভাগের উদ্যোগে ১৫ হাজার ২৯০ একর ম্যানগ্রোভ বনকে সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
কিন্তু সেখানে মাছ শিকারের জন্য গড়ে উঠেছে একটি চক্র। চক্রটি বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্তকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের ‘ম্যানেজ’ করে বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালে বাঁধ দিয়ে দেদারছে মাছ শিকার করছে।
গলাচিপা উপজেলার চরকার ফারমা এলাকার মাছ শিকারি বাকপ্রতিবন্ধী জসিমের স্ত্রী রেশমা বেগম বলেন, দুই সপ্তাহ আগে সংরক্ষিত বনের খালে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার নিয়ে জসিমের ওপর হামলা করে ওই এলাকার জাফর ও মাহবুব। জাফরের দাবি, খাল তারা চার লাখ টাকায় ‘বিট’ রেখেছেন।
সেখানে অন্য কেউ মাছ ধরতে পারবে না।
রেশমা আরও বলেন, ‘এসব খাল খোলা (উন্মুক্ত) থাকলে আমাদের মতো গরিবরা জাল দিয়ে মাছ ধরে জীবন চালাতে পারে।’
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মাহবুব বলেন, জসিমের সঙ্গে আমাদের একটু ঝামেলা হইছিল। আমরা ফরেস্ট অফিস আর রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে চরকার ফারমার বনের ভেতর দক্ষিণের আটটি খাল বিট নিয়েছি। এ ছাড়া আরো যেসব খাল আছে, সেগুলো অন্যরা বিট নিয়েছে।
মাহবুব আরো বলেন, ‘আমরা যে খাল বিট নিয়েছি ওই খালে জসিম মাছ ধরার চেষ্টা করে। বাধা দিলে ওর সঙ্গে আমাদের ঝামেলা হয় যা পরে মীমাংসা হয়েছে।’
সংরক্ষিত বনে চরকারফারমার মধ্যস্বত্বভোগী মোশারেফ প্যাদা বলেন, ‘প্রতিবছরই এ বন বিট দেওয়া হয়। এ বছরও একইভাবে ফরেস্ট অফিস আর রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করেই খালের বিট নেওয়া হয়েছে। যারা খালের বিট নেয় তারাই মাছ ধরে। আবার কেউ কেউ বিট বিক্রি করেও দেয়। তবে কোন অফিস বা রাজনৈতিক নেতাদের কত টাকা দেওয়া হয়েছে- তা পরে বলবেন বলে জানান তিনি।
তবে বন বিভাগের গলাচিপা রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কোনো বনের খাল বিট দিইনি। যারা খালে বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ প্রসঙ্গে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সংরক্ষিত বনের ভেতর প্রবেশ করা মানেই বন ও বনের প্রকৃতিকে ধ্বংস করা। বিভিন্ন সময় সরেজমিন কথা বলে আমরা দেখেছি, তারা এই খালগুলোতে শুধু মাছ ধরে না, বিষও প্রয়োগ করে। এতে শুধু মাছ নয়, খালের ছোট-বড় সব জলজ প্রাণী ও প্রকৃতির ভারসাম্য মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব বন্ধে প্রশাসনকে অবশ্যই কঠোর অবস্থান নিতে হবে।’
আরটিভি/ এসকেডি